
ব্রিটিশ পরিচয়ে আফগান লিগের ড্রাফটে, আমির কি আইপিএলেও নাম নিবন্ধন করবেন
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ০:৯

ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। ছবি: এএফপি
ফখর জামানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, সেই সঙ্গে সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের অর্ধশতকের সুবাদে ঘরের মাঠে দারুণ জয় পাকিস্তানের। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। এদিন শ্রীলঙ্কার দেয়া ৩২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে পরপর মাআজ সাদাকাত (৫) ও বাবর আজমকে (০) ফিরিয়ে দেন দিলশান মাদুশঙ্কা। মাত্র ১৪ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
তবে শুরুতেই ধাক্কা সামলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান ফখর জামান ও তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার সাদ বেগ। তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ার পথে এই দুই বাঁহাতি তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক।
২৭তম ওভারে মাহিশ থিকশানা সাদ বেগকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। ৭৫ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৩।
এরপর চতুর্থ উইকেটে সালমান আলী আগার সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়েন ফখর। এই জুটিতেই নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
৩৪তম ওভারে মাদুশঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে থামে ফখরের দুর্দান্ত ইনিংস। মাত্র ৯৯ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৭ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের জয়ের পথে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
ফখরের বিদায়ের দুই ওভার পর সাজঘরে ফেরেন সালমান আলী আগাও। ২৫ বলে ১৭ রান করে আউট হন তিনি।
৩৬.৫ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৩০। এরপর দলের হাল ধরেন তরুণ ব্যাটার হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন তারা।
এই জুটিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মিনহাস। মাত্র ৩১ বলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ৪৮তম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর বলে আউট হন মিনহাস।
একই ওভারে নতুন ব্যাটার ফাহিম আশরাফকেও গোল্ডেন ডাকে ফিরিয়ে দেন ফার্নান্দো। ফলে ৪৭.৫ ওভারে ৩২৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান।
তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করেন। ইনিংসের ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মাদুশঙ্কাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলশান মাদুশঙ্কা ৯.৩ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো দুটি এবং দুনিথ ওয়েলালাগে ও মাহিশ থিকশানা একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই ভালো ব্যাটিং করে সফরকারীরা।
ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কামিন্দু মেন্ডিস প্রথম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। ৪৯ বলে ৩৮ রান করা আভিষ্কাকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন সালমান আলী আগা।
এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ক্রিজে এসে কামিন্দুর সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১২ বলে ৮ রান করে সালমানের বলে আউট ফেরেন তিনি। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২১.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০৯।
কুশলের বিদায়ের পর পাভান রথনায়েকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন কামিন্দু মেন্ডিস। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর দ্রুত ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এই জুটিতেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কামিন্দু।
তৃতীয় উইকেটে ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার পর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন কামিন্দু। ১২৮ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩১ রান করেন তিনি।
এরপর দ্রুত রান তুলতে থাকেন পাভান রথনায়েকে ও দাসুন শানাকা। তবে ৯ বলে ১৭ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে দেন শাহিন। এরপর হারিস রউফের শিকার হন পাভান রথনায়েকে। ৬৫ বলে আটটি চারে ৭৭ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। নাসিম শাহ ফেরান জনিথ লিয়ানাগেকে (৯ বলে ৬)। অন্যদিকে হারিস রউফের বলে দুনিথ ওয়েলালাগে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর নাসিম শাহর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সাহান আরাচ্চিগে। ১২ বলে ১৫ রান করেন তিনি।
তবে শেষ দুই ওভারে আসিথা ফার্নান্দো ও মাহিশ থিকশানা গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করেন। ফার্নান্দো ৬ এবং থিকশানা ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আলী আগা ও হারিস রউফ দুটি করে উইকেট নেন।