
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
ওমর ফারুক খোন্দকার
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫২

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মালদ্বীপে এক একাডেমিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেছে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী মালের বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবনে ‘জাতীয় ইতিহাস, কূটনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বাংলাদেশ–মালদ্বীপের বন্ধুত্ব’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম। এতে অন্যান্যের মধ্যে আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী অধ্যাপক ড. কে. এম. হুরিয়া পারভীন এবং বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মো. খলিলুর রহমান।
আলোচনায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এ দিনের তাৎপর্য এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অবদান গভীরভাবে তুলে ধরা হয়।
বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় যে, ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতিত্বকালে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করে।
মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম ১৯৭৮ সালে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার তাৎপর্য পর্যালোচনা করেন।
সহকারী অধ্যাপক ড. কে. এম. হুরিয়া পারভীন একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের অর্থনীতি ও সমাজে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানকে দুই দেশের জনগণের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, 'বর্তমানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে।'
তিনি জানান, মালদ্বীপে কর্মরত প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি দুই দেশের বন্ধুত্বের জীবন্ত সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। একই সাথে তিনি প্রবাসীদের প্রতি মালদ্বীপ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, বাণী পাঠ এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। একাডেমিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।