
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৯

কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, কর্মীদের নামে বেতন পরিশোধ দেখানো হলেও তারা বাস্তবে সেই অর্থ পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। ছবি: সংগৃহীত
বেতন নিয়ে অনিয়ম, কাগজে-কলমে বেতন পরিশোধ এবং কর্মীদের কাছ থেকে জমা হওয়া বেতনের টাকা ফেরত নেয়ার ঘটনা ঠেকাতে ব্যাংকগুলোর নজরদারি আরও কঠোর করছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্মীর বেতন লেনদেনে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত হলে তার আগের ছয় মাসের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখতে হবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে মাসে ৩০০ কুয়েতি দিনার বা তার কম বেতন পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি করতে হবে। এসব কর্মীর বেতন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব থেকে ২৫ দিনার বা তার বেশি অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর কিংবা পরিশোধের ক্ষেত্রে দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাই বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, কর্মীদের নামে বেতন পরিশোধ দেখানো হলেও তারা বাস্তবে সেই অর্থ পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পর নিয়োগকর্তারা কর্মীদের ওপর সেই অর্থ ফেরত দেয়ার চাপ প্রয়োগ করছেন কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেতন জমা দেয়ার সময় আলাদাভাবে দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না। তবে নির্ধারিত সীমার সমান বা বেশি প্রতিটি অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর ও পেমেন্টের ক্ষেত্রে কর্মীর পরিচয় এবং সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ব্যাংকিং অ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে লগইনের সময় পরিচয় যাচাই করলেই চলবে না। প্রতিটি লেনদেন অনুমোদনের আগে কর্মীকে লেনদেনের ধরন, অর্থের পরিমাণ এবং প্রাপকের তথ্য দেখাতে হবে।
যেসব কর্মীর স্মার্টফোন নেই অথবা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ নেই, তাদের জন্যও নিরাপদ বিকল্প যাচাইব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া কর্মীদের যোগাযোগের তথ্য সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে যাচাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। কোনো কর্মীর বেতন জমা হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেতনের ৮০ শতাংশ বা তার বেশি অর্থ উত্তোলন কিংবা স্থানান্তরের ঘটনা আগের তিনটি বেতন পরিশোধ চক্রের মধ্যে অন্তত দুবার ঘটলে তা সন্দেহের নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ ছাড়া বেতন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেতনের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্থ নিয়োগকর্তা কিংবা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মীর একই ধরনের লেনদেন এবং একই এটিএম থেকে বারবার দলবদ্ধভাবে বেতন উত্তোলনের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হবে।
কর্মীর ব্যাংক কার্ড বা পিন নম্বর নিয়োগকর্তার কাছে থাকা, যথাযথ কারণ ছাড়া কর্মীর কাছ থেকে বেতনের টাকা ফেরত নেয়া কিংবা জোর করে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। তবে এসব বিষয়কে সন্দেহের নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হবে; এগুলোর কোনোটি একাই অনিয়মের প্রমাণ নয়।
নির্দেশনায় সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে দুই দিনের মধ্যে প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষ করতে বলা হয়েছে। সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একই দিন জানাতে হবে। বিস্তারিত তদন্তের জন্য আরও তিন দিনের পর্যবেক্ষণকাল রাখা হয়েছে। তবে জরুরি ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে নজরদারি ও তদন্তের ফলাফল নিয়ে প্রতি মাসের পরবর্তী মাসের পঞ্চম কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদারকিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কর্মীর বেতন জমা দিতে দেরি করা কিংবা তার নিজের অর্থ ব্যবহারে বাধা দেয়া যাবে না, যদি না এর পেছনে আইনগত ভিত্তি থাকে। একইভাবে, কোনো কর্মী পুরো বেতন নগদে উত্তোলন করলেই সেটিকে বেতন জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
কুয়েতে বেতন পরিশোধসংক্রান্ত অনিয়ম পর্যবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দায়িত্ব জনশক্তি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ওপরও রয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া কুয়েত ওয়েজ পেমেন্ট সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে নতুন নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু বেসরকারি খাতের কর্মীদের নামে বেতন পরিশোধের তথ্য নথিভুক্ত করা নয়; বরং তারা বাস্তবে বেতন পাচ্ছেন এবং নিজেদের উপার্জিত অর্থ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারছেন, তা নিশ্চিত করা।