
আসছে শীত, চুলে হলুদ কেন দেবেন জানেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩৩

খালি পেটে বা ভুল নিয়মে চিয়া সিড খেলে কারও কারও শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে চিয়া সিড বেশ জনপ্রিয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকেই নিয়মিত চিয়া সিড খেয়ে থাকেন। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তবে উপকারী এই বীজ সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে খালি পেটে বা ভুল নিয়মে চিয়া সিড খেলে কারও কারও শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
জেনে নিন, কোন কোন ক্ষেত্রে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়া এড়িয়ে চলবেন-
১. যাদের গ্যাস্ট্রিক ও পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে: চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে পেটে গ্যাস, অস্বস্তি, পেট ফাঁপা কিংবা পেটব্যথা হতে পারে। যাদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা উচিত।
২. যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে: চিয়া সিডের ফাইবার মল নরম করতে ও মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পানি ছাড়া চিয়া সিড খেলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে। তাই শুকনো চিয়া সিড না খেয়ে পর্যাপ্ত পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া ভালো।
৩. যাদের অন্ত্রের সংকোচন বা ব্লকেজের ঝুঁকি রয়েছে: যাদের অন্ত্রে সংকীর্ণতা, অন্ত্রের বাধা বা খাবার চলাচলে সমস্যা রয়েছে, তাদের চিয়া সিড খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। কারণ এটি পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে।
৪. যাদের রক্তচাপ কম থাকে: চিয়া সিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে যাদের আগে থেকেই রক্তচাপ কম অথবা যারা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খান, তাদের নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
৫. যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে: চিয়া সিডে থাকা ফাইবার খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে যারা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত চিয়া সিড যুক্ত করলে রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
৬. যাদের চিয়া সিডে অ্যালার্জি রয়েছে: চিয়া সিড খাওয়ার পর চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে আর খাওয়া যাবে না। শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
৭. যাদের গিলতে সমস্যা হয়: চিয়া সিড পানি পেলে দ্রুত ফুলে জেলির মতো হয়ে যায়। তাই শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের খাবার গিলতে সমস্যা বা খাদ্যনালিতে সংকীর্ণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি শ্বাসনালি বা খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাহলে কীভাবে খাবেন চিয়া সিড?
১. প্রথমে ১ চা-চামচ চিয়া সিড দিয়ে শুরু করতে পারেন।
২. এক গ্লাস পানিতে অন্তত ২০–৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৪. প্রথম থেকেই বেশি পরিমাণে খাবেন না।
৫. পেটে অস্বস্তি হলে খাওয়া বন্ধ করে কারণ বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।