
সুখী দেশ ফিনল্যান্ডে ‘সিঙ্গেলদের’ বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:২৪

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে বৈধ আকামা ও কাজের অনুমতি যাচাই না করে ভবনের দারোয়ান বা হারিস নিয়োগের বিষয়ে সম্পত্তির মালিকদের সতর্ক করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নির্মাণাধীন ভবন, শ্যালেট, পশু পালনের খামার বা জাখুর এবং কৃষি খামারের মালিকদের উদ্দেশে দেওয়া এ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ আবাসন ও কাজের আইনগত অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত আরব টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দারোয়ান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির বৈধ আকামা থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তার নিয়োগকর্তা হতে হবে সম্পত্তির মালিক অথবা নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পলাতক হওয়ার অভিযোগ, আদালতের রায় কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কাউকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে সংশ্লিষ্ট মালিকদেরও আইনি জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। কুয়েতে দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রবাসী গৃহকর্মী ভিসা যা সাধারণভাবে খাদেম বা ডোমেস্টিক ওয়ার্কার ভিসা হিসেবে পরিচিত নিয়ে দেশটিতে এসে বাড়ি, ভবন, দোকান কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রবাসীদের মধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থাকে অনেক সময় ‘ফ্রি ভিসা’ বলা হলেও এটি কোনো স্বতন্ত্র বৈধ ভিসার শ্রেণি নয়।
অনেক ক্ষেত্রে ভিসা বা আকামার স্পন্সর এক ব্যক্তি হলেও কর্মী কাজ করেন অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে। কুয়েতের প্রচলিত আবাসন ও শ্রমবিধি অনুযায়ী, অনুমোদিত ব্যবস্থা বা প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত নিয়োগকর্তার বাইরে কাজ করা আইনগত ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে গৃহকর্মীর ভিসায় এসে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ভিসা ও কাজের অনুমোদন আইনসম্মত কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে, অনেক ভবন, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এমন ব্যক্তিদের দারোয়ান হিসেবে দেখা যায়, যাদের আকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা যাদের কাজের বৈধ অনুমতি নেই। নতুন করে দেওয়া সতর্কবার্তার পর এ ধরনের ব্যক্তিদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় সব ধরনের দারোয়ান নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন কথা বলা হয়নি। বরং বৈধ আকামা, যথাযথ নিয়োগকর্তা এবং আইনসম্মত কাজের অবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈধ আকামা থাকা মানেই যেকোনো স্থানে কাজ করার অনুমতি রয়েছে, এমনটিও নয়। প্রবাসী কর্মীদের জন্য এ সতর্কবার্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ভিসার ধরন, আকামার বৈধতা এবং প্রকৃত নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের সম্পর্ক যাচাই না করে অন্যত্র কাজ শুরু করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইভাবে ভবন বা সম্পত্তির মালিকদেরও দারোয়ান নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত। কুয়েতে আবাসন ও শ্রম আইন মেনে চলা এবং অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে কর্তৃপক্ষের এ সতর্কতা প্রবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।