
মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু রোববার: শ্রমমন্ত্রী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২১

ময়মনসিংহে ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। ছবি: সময় সংবাদ
সারা দেশে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে একযোগে সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হবে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ উৎসবে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য-সংগীতের পাশাপাশি ভাটিয়ালী, জারি, সারি, লোকসংগীত, বাউলসংগীত, পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানোসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তরুণদের ব্যান্ড সংগীতও এ উৎসবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দুদিনব্যাপী ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশের গ্রাম ও শহরে হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত ও গতিশীল করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বর্তমানে একটি বিপন্ন সময় পার করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের সংস্কৃতিসহ দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যথাযথ পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যার অভাবে আমাদের সংগীত, নৃত্য, কবিতা, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনেক উপাদান বিকশিত হতে পারছে না। একটি গাছ যেমন পরিচর্যা, সার-পানি ও সুরক্ষা ছাড়া বড় হতে পারে না, তেমনি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের মতো সাংস্কৃতিক খাতকেও গতিশীল করার বিষয়ে আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ আগ্রহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজন শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, যাত্রা, সার্কাস ও বিভিন্ন শিল্পকর্মসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারাগুলোকে সুস্থ, সাবলীল ও রুচিশীলভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন প্রজন্মের মন ও চেতনাকে দেশের সংস্কৃতির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক গর্ব ও অহংকার করার মতো। এখানকার ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে খুবই ভালো পারফর্ম করে। ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি করতে হবে। সংস্কৃতির বিকাশে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সব মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।