
শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:২৪

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ট্রিপল হত্যা মামলায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারক। ছবি: সময় সংবাদ
মানিকগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিন মামাকে হত্যার মামলায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৮ জনের যাবজ্জীবনসহ বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান সব আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মো. জিয়ার উদ্দিন, জসিম, আবদুর রশিদ ও সিদ্দিক মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৮ জন হলেন- মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, সালাউদ্দিন, উজ্জ্বল, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ, স্বপন ও মো. শামসুল হক। মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। তারা হলেন উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় মামা-ভাগ্নের জমি ও নগদ টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি সালিশ মীমাংসার দিন ধার্য ছিল। আসামি জিয়ার, জহির উদ্দিন, জাহিদুল, জসিমসহ অন্যরা মামা, আজিজ মোল্লা টেন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। আসামিরা দা, ফালাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করায় আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজ মোল্লা ও টেন্ডার মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর করিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করিমও মারা যান। এ ঘটনায় পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি আজিজের স্ত্রী মোছা. ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।
২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১১ বছর পর ২১ জুন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পরে জনাকীর্ণ আদালতে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।
এ রায়ের বাদীপক্ষের লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের সবাই অসস্তোষ প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আ ফ ম নুরতাজুল আলম বাহার জানান, রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ রায়ে কর্তৃপক্ষও সন্তুষ্ট।