
নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলো স্বজনরা
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:১

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরা নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, এপারে আসতে হলে তাদের ফিটফাট হয়ে আসতে হবে। বিষয়টি এত সহজ নয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ডিসেম্বরে একটি দলের নেত্রী আসবেন বলে শোনা যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর অনেক গণ-আন্দোলন হয়েছে। তবে এই প্রথম কোনো আন্দোলনে তাদের নেতাকর্মীরা যে অবস্থায় ছিলেন, সেভাবেই ওপারে পালিয়ে গেছেন। এপারে আসতে হলে তাদের ফিটফাট হয়ে আসতে হবে। বিষয়টি এত সহজ নয়। গ্রামের ভাষায় যাকে ফাঁকা আওয়াজ বলে, তারা এমন আওয়াজ দিচ্ছে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই ষড়যন্ত্রে সফল হতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান নিজেই সবাইকে শেখাচ্ছেন, কীভাবে জনগণের জন্য কাজ করতে হয় এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, স্বাধীনতার পর মানুষ আশা করেছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, বাকস্বাধীনতা ফিরে পাবে। কিন্তু শেখ মুজিব মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। এসব অনাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিপাহী-জনতার বিপ্লব ঘটিয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।
দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। কেউ মূল্যায়নের বাইরে থাকবেন না। তবে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কারও কর্মকাণ্ডের কারণে দল যেন বদনামের শিকার না হয়, জনগণ যেন কোনো দুর্ভোগে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জনগণ যেন বলতে না পারে, বিএনপির নেতাকর্মীদের কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের সেবা ও এলাকার উন্নয়নের জন্য। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। নির্বাচনের আগেও বলেছি, টাঙ্গাইলে সর্বোচ্চ উন্নয়ন করব, ইনশাআল্লাহ। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যে-ই এসব অপরাধে জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব।
এসময় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।