
নড়াইলে প্রকৌশলীর বাড়িতে কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
শফিকুজ্জামান রুবেল
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৩

রাজধানীর সড়কে বাস চলাচল। ফাইল ছবি
‘রুট রেশনালাইজেশন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে আগের মতো এবারও কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম না মানলে বাতিল হতে পারে পরিবহন কোম্পানির লাইসেন্সও। তবে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করে উদ্যোগ শুরু করলে এবারও ব্যর্থতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধ ও রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আবারও বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজধানীতে বাস চলাচলের জন্য অনুমোদিত রুট রয়েছে ৪১৮টি। তবে এর মধ্যে সচল মাত্র ৯৮টি। এসব রুটে কাগজে-কলমে ১২০টি কোম্পানির বাস চলার কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে ৬৬টি কোম্পানির বাস। এসব বাসকে ৩২টি রুটে ভাগ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবস্থায় একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি সফল হবে এ উদ্যোগ? এর আগে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল চালুর জন্য অন্তত চারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার পেছনে পরিবহন মালিকদের অনীহা ও বিরোধিতা বড় কারণ। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব, চাঁদাবাজি, নির্ধারিত রুট না মেনে বাস চলাচল, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও বাসের সংকটও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) দাবি, এবার উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, ‘এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা চলতে পারে। তবে আমরা যে নির্দিষ্ট এলাকাগুলো নিয়ে কাজ করব, সেখানে এসব অনিয়ম চলবে না।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘যারা এই নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করব।’
তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করে উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করলে এবারও ব্যর্থতার আশঙ্কা করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম সামছুল হক বলেন, ‘সমস্যা থাকবেই। এসব সমস্যা দেখভালের জন্য মাঠপর্যায়ে সরাসরি লোকবল থাকতে হবে। পরিকল্পনায় ঘাটতি থাকলে আগের মতোই উদ্যোগটির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’
প্রথম ধাপে প্রাথমিক পর্যায়ে রোববার (১ নভেম্বর) মহানগরীর ছয়টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রুটগুলো হলো-গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সায়েন্সল্যাব, ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে চট্টগ্রাম রোডের কাঁচপুর ব্রিজ, ঘাটারচর থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং টঙ্গী থেকে আব্দুল্লাহপুর।
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় আগের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার অভাব ও মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি রেখে বৈঠকনির্ভর সমাধান খুঁজতে গিয়েই কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। এবার এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক ব্যবস্থার আওতায় এনে সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।