
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭টি হাতবোমা উদ্ধার
শহিদুল ইসলাম হিরা, শেরপুর
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০

দুই বছর ধরে থমকে আছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর পাগলা নদীর ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ। এতে চরম ভোগান্তি নিয়ে প্রতিদিন নদী পারাপার হচ্ছেন ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন না করায় দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে দ্রুতই নতুন দরপত্রের মাধ্যমে সেতুটির বাকি কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস এলজিইডি’র।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়ন থেকে মোহনগঞ্জ সড়কের পাগলা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২৩ সালে নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে অংশ নিয়ে মেসার্স ধ্রুব ট্রেড এজেন্সি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পান। কিন্তু নির্ধারিত ১৮ মাসের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না করে কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করে সামান্য কিছু কাজ করে পালিয়ে যায় ঠিকাদার। সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন না করায় দরপত্র বাতিল করার ফলে সৃষ্টি হয়েছে সেতু নির্মাণের অনিশ্চয়তা।
গত তিন বছর ধরে একটি মাত্র বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ সাঁকোটি সহজে পারাপার হলেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, নারী ও বয়স্করা। সেতুর অভাবে সহজে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক। দীর্ঘ সময়েও নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সেতুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত স্থানীয়রা। তাই দ্রুতই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি- বাগেরভিটা, দক্ষিণ দাড়িয়ার পাড়, উত্তর কান্দুলী, সারিকালী নগরসহ নদীর দুই পাড়ের ১০ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটির সঙ্গে এলাকার মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাও জড়িত। সেতুটির আশপাশে রয়েছে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নদী পারাপারের ঝুঁকির কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনেও বাড়ছে সময় ও খরচ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে একটি বাঁশের ওপর দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। বর্ষা মৌসুমে নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলা দিয়ে নদী পার হতে হয়।
দক্ষিণ দাড়িয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন, ‘বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ পারাপার করা খুব কঠিন। কারণ, একটা মাত্র বাঁশ দিয়ে সবাই চলাচল করতে পারে না। আর বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সাথে সঙ্গে এই সাঁকো দিয়ে পার হওয়া যায় না। এমন একটা অবস্থা হয়েছে বর্তমানে কেউ অসুস্থ হলে তখন বোঝা যায় কষ্ট কাকে বলে। কী যে একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা বসবাস করছি, যা বুঝাবার মতো না। আমরা চাই, যেভাবেই হউক সেতুর কাজটি খুব তাড়াতাড়ি শেষ করুক।’
একই গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল হক বলেন, ‘তিন বছর ধইরা সেতুর কাম বন্ধ। আমাগো ছেলে-মেয়েরা সময়মতো স্কুলে যাবার পাই না। অসুখ-বিসুখ হইলে রোগী নিয়া যাইবার পাই না। আমরা যে কৃষক মানুষ ধান-সবজি চাষ করে বাজারে বেইচমু সেটাও অনেক কষ্ট। সেতুডার কামের আগে যদি আমগর জন্য এডা রাস্তা কইরি দিতো, তাইলে খুব বালা হইতো।’
উত্তর কান্দুলি গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাম শুরু অইছে দেইখ্যা মনে করছিলাম, আমাগো কষ্টের দিন শেষ। কিন্তু কামডা এখন বন্ধ কইরা রাখছে। এহন বাঁশের ওপর দিয়া পার হই। বাচ্চা আর বুড়া মানুষ পার হইতে গেলে ডর লাগে। কখন যে নদীতে পইড়া যায়। এ এলাকাডা একটা দ্বীপের মতো হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ধ্রুব ট্রেড এজেন্সির মালিক সৈয়দ উজ্জলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শেরপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কয়েক দফা সময় বাড়ানো ও নোটিশ দেওয়ার পরও কাজ না হওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে প্রাক্কলন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি সাপেক্ষে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সেতুটির বাকি নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।