
তাহসিফ সৌরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে যা জানা গেল

লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল। ছবি: সময় সংবাদ
নির্মাণকাজ শেষ হলেও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার পাইপলাইন চুরি হয়ে যাওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নতুন ভবনটি। ফলে জেলার একমাত্র প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই সদর হাসপাতাল। রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে কয়েক বছর আগে ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভবনটির কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের তামার পাইপলাইন চুরি হয়ে যাওয়ায় ভবনটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তদারকি ও নিরাপত্তার ঘাটতি দেখা দেয়। সেই সুযোগে দুষ্কৃতকারীরা নতুন ভবনটিতে ঢুকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার শত শত ফুট তামার পাইপলাইন কেটে নিয়ে যায়।
এদিকে নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় হাসপাতালের পুরনো ভবনে রোগী রাখার জায়গা হচ্ছে না। প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ওপর চিকিৎসক ও প্যাথলজি টেকনিশিয়ানের তীব্র সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরশাদ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সঞ্চালন পাইপ চুরি হয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত নতুন ভবনটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পাইপলাইন পুনঃস্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে পুরো ভবনটি রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি অবিলম্বে সংস্কার করে দ্রুত চালু করা হোক, যাতে সীমান্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হয়।