
নতুন নীতিভারতে আন্দোলনে জড়িতদের মিলবে না সরকারি চাকরি!
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে শক্তিশালী সমর্থন পাওয়ায়, তার বিরোধীদের তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। যদিও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ইসরাইলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি, উগ্র ডানপন্থি ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।
আরব ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় যাওয়ার বাস্তবসম্মত কোনো পথ প্রায় নেই। তবে ইসরাইলের অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা এমন সমর্থন প্রত্যাখ্যান করেন।
ভোট গণনা চলতে থাকায় ফলাফল এখনো পরিবর্তিত হতে পারে। তবে মধ্য-বামপন্থি থেকে শুরু করে কট্টর ডানপন্থি দলগুলোকে নিয়ে গঠিত নেতানিয়াহু-বিরোধী জোট নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ওই জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এই দায়িত্বে থাকতে পারেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ সরকারের বিভিন্ন ক্ষমতা তখনো তার হাতে থাকবে।
ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে এ ধরনের সরকারের ক্ষেত্রে ‘সংযম বজায় রাখার দায়িত্ব’ রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কম থাকে।
বুধবার রাত পেরিয়ে ভোর ৩টার পর নিজের লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি ‘একটি শক্তিশালী, ডানপন্থি জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহু ইসরাইলের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেন। নেতানিয়াহু বলেন, দুই দেশের সামনে ইরানের হুমকি, তার ভাষায় –‘পুরোপুরি ও চিরতরে’ দূর করার জন্য ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে ইসরাইলি ভোটারদের নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে দুই নেতা মিলে ইরানে ‘কাজটা শেষ করতে’ পারেন। ফলাফল প্রকাশের পর ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’ এবং দাবি করেন, তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে ‘অনেক সাহায্য করেছে’।
ইসরাইলে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কয়েকটি দেশে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি।
তেহরানে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি-সংবলিত ব্যানার ইরানিদের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই হামলার মধ্য দিয়েই যুদ্ধের সূচনা হয়। ব্যানারের ঠিক ডান পাশে ছিল হিজবুল্লাহর প্রয়াত নেতা হাসান নাসরাল্লাহর একটি পোস্টার। লেবাননে নেতানিয়াহুর নির্দেশে চালানো হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন।
ইরানের ৫০ বছর বয়সি নাগরিক আবদুল্লাহ করিমি বলেন, ‘আমি সত্যিই হামলার আশঙ্কা দেখতে পাচ্ছি।’
১৯৭৯ সালে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করা প্রথম আরব দেশ মিশরেও হতাশা স্পষ্ট ছিল।
৬২ বছর বয়সি আইনজীবী উসমান সেলিম বলেন, নেতানিয়াহুর পরাজয় হলে ইসরাইলকে উগ্র ডানপন্থার পথ থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। কিন্তু সেই আশা ভেঙে গেছে।
ইসরাইলের বর্তমান বিরোধী নেতা আইজেনকোট স্বীকার করেছেন, নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক স্বার্থে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাচ্ছি: নেতানিয়াহু একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী, তার কোনো ম্যান্ডেট নেই এবং জনগণের আস্থাও নেই। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো প্রচেষ্টার মুখে দৃঢ় থাকুন।’
এদিকে নেতানিয়াহু ইরান সংঘাতকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের কাজে ব্যবহার করছেন, এমন অভিযোগ এর আগেও তার দপ্তর প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তার দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
নির্বাচনের ফলাফল নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের সময়ে ইসরাইলের ইহুদিদের মধ্যে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ইসরাইলের ইতিহাসের প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করা মধ্য-বামপন্থিরা এখন ছোট একটি প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই এখন ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত শান্তি প্রচেষ্টার মূল ভিত্তি ছিল এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট