
গুলিস্তানে ডিএসসিসির অভিযান: ফুটপাত থেকে শতাধিক দোকান উচ্ছেদ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪

সরকারের দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতায় উন্মুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে এই পরীক্ষা শুরু হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই নতুন নির্দেশনার কথা জানায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। কর্মীদের মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত এসব কেন্দ্রের বিষয়ে খোঁজখবর রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো মেডিকেল সেন্টার সরকারি নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবরের আগে করা কোনো মেডিকেল পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের (বহির্গমন ছাড়পত্র) জন্য তা প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না। কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা করাতে পারবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অনুমোদন ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ার এবং অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারো কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দেয়ার জন্য কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং ভিডিআর (VDR) ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর মধ্যে অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।
অবৈধ বা অনুমোদনহীন মেডিকেল পরীক্ষা কিংবা এ ধরনের অনিয়মের কোনো তথ্য জানা থাকলে তা ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ সরাসরি মন্ত্রণালয়ে জানানোর জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছে (ই-মেইল: [email protected])। কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।
সরকারের দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতায় বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। চুক্তি অনুযায়ী, দেশটিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ ছাড়া বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন এবং অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক কর্মী সেখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা এবং একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া সুযোগ দেয়া হবে না। কর্মীরা যেন সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়া মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জব অর্ডার সংগ্রহ: মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে ‘জব অর্ডার’ বা চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে।
কর্মী নির্বাচন: যে এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজস্ব কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অর্থাৎ কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব এখতিয়ারে থাকবে।
মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রসেসিং: যেখানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন হবে (যেমন: কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া), সেখানে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’ (বোয়েসেল)-সহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স: মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রসেসিং সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি তার নিজ নিজ লাইসেন্সের মাধ্যমেই নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবে। সরকারি সংস্থা বোয়েসেল এবং অপর ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি কেবল প্রশাসনিক সহায়তা ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান করবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সির নিজস্ব দায়িত্ব, জবাবদিহিতা এবং ব্যবসায়িক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।