
নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলো স্বজনরা
প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৬

ফুলবাড়িয়া থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার নামে এক বিধবা মহিলার টিপসই নিয়ে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরি অভিযোগে দুই জনের বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে আছিয়া বেগম বাদী হয়ে আব্দুস ছাত্তার ও আব্দুস কদ্দুছকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করেন। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান।
সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেয়া হয়েছিল বিধবা আছিয়া বেগমের (৪৩)। কয়েক দিন পর তাকে ডেকে নেয়া হয় একটি দোকানে, সেখানে একটি কাগজে টিপসইও নেয়া হয়। আছিয়ার ধারণা ছিল, সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য এসব কাগজপত্র ও টিপসই নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিন পর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে ভিন্ন খবর—আছিয়ার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে দেখানো হয় একটি কাবিননামা ও এফিডেভিট। সেখানে বর হিসেবে নাম রয়েছে তার পূর্ব পরিচিত আবদুল কুদ্দুছের। কাবিননামায় আছিয়ার টিপসই থাকলেও আছিয়ার দাবি—তিনি কোনো বিয়েতে যাননি, কাজি দেখেননি এবং বিয়েতে কোনো সম্মতিও দেননি।
উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তোলপাড় চলছে। আছিয়ার অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টিপসই নেন জামায়াতের পুটিজানা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেয়া আবদুস ছাত্তার। সেই টিপসই ব্যবহার করেই জালিয়াতির মাধ্যমে তার নামে বিয়ের কাগজ তৈরি করা হয়েছে
ঘটনাটি নিয়ে জানাজানি হলে অভিযুক্ত আ. ছাত্তার ও কুদ্দুছ গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ নিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামের ঐ নারীর বাড়িতে শালিস হয়। শালিসে নারীর মুখ থেকে বিস্তারিত শুনেন উপস্থিত লোকজন। অভিযুক্ত ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় পরবর্তীতে আবারও বুধবার শালিসের তারিখ দেয়া হয়। বুধবারও সে উপস্থিত হয়নি।
শালিসে উপস্থিত লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হতদরিদ্র আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল কদ্দুছ স্থানীয় জামায়াতকর্মী ছাত্তারের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও টিপসই নিয়ে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা করেছেন। পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী অফিসের সিল যুক্ত একটি কাবিননামা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য ও নগদ ৫০ হাজার টাকা আদায় দেখানো হয়েছে। কাবিন নামায় আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষী হিসেবে দেয়া হয়েছে। অথচ তারা কেউ এ বিষয়টি জানে না।
সাত্তারের দাবি করেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার মহিলার কাবিননামা করার সাথে সে জড়িত না, তাকে ফাঁসানো হয়েছে
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে কাবিননামা করার ঘটনায় দুইজনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছেন আছিয়া বেগম। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।