
কিশোরগঞ্জে মালিকদের দ্বন্দ্বে ঢাকার সঙ্গে কয়েকটি কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ
স্বপন আহমেদ
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫৩

বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
কওমি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর একের পর এক যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে জনমনে। বারবার ঘটে চলা এসব মর্মান্তিক ঘটনা প্রশ্নবিদ্ধ করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ ও তদারকি ব্যবস্থাকে। মাদ্রাসার নীতিনির্ধারকদের দাবি–অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পৌঁছায় না। তবে শিক্ষা ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর তদারকি ও নজরদারির স্পষ্ট অভাবেই এমন অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।
সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
অনুরূপ এক ঘটনায় পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান।
এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একের পর এক শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বেশিরভাগ ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। যখন কোনো শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা ভুক্তভোগীর পরিবার বাধ্য হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসীকে নিয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করে, কেবল তখনই বিষয়গুলো সামনে আসে।
কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার নীতিনির্ধারকদের দাবি, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে এসব অভিযোগ খুব কমই পৌঁছায়। অভিযোগ পেলে তারা নিজস্ব কাঠামোর মধ্যে ব্যবস্থা নেন বলে দাবি করলেও আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তারা।
কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামী’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান সময় নিউজকে বলেন, ‘অপরাধীদের সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের আপস নেই। অপরাধী অবশ্যই তার অপরাধের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার সরাসরি আইনগত ক্ষমতা আমাদের নেই। ব্যক্তিগত কোনো ব্যক্তির অপরাধ সম্পূর্ণই তার নিজস্ব। প্রতিষ্ঠান কাউকে এসব শেখায় না, সমর্থনও করে না বা এই ধরনের কাজের কোনো দায় নেয় না।’
অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা এই সংকটকে সমাজের সার্বিক অবক্ষয়ের ফলাফল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কেবল ঘটনা ঘটার পর প্রতিক্রিয়া দেখালেই সমাধান হবে না; বরং গোড়াতেই সঠিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সমাজ যেভাবে সুস্থ ধারায় বেড়ে ওঠার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি। বড় ধরনের কোনো নৃশংস ঘটনা ঘটলে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে আমরা তা নিয়ে কথা বলি ও সাময়িক গুরুত্ব দিই। কিন্তু কেন এই ঘটনাগুলো বারবার ঘটার সুযোগ পাচ্ছে–সেই মূল প্রশ্নটি আমরা করি না এবং কারণগুলো অনুসন্ধান করে প্রতিরোধ করি না।’
বিশ্লেষকদের পরামর্শ, শিশুদের নিরাপদ শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে যে কোনো অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেলেই অবিলম্বে কঠোরভাবে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।