
কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০:০

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. হাসান মুরাদকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে জাল ভিসা দেয়ার মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. হাসান মুরাদ (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হাসান মুরাদের বাবার নাম মোহাম্মদ সুলতান আহমদ এবং মায়ের নাম হনুফা খাতুন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ছিটুয়াপাড়া এলাকার সুলতান সওদাগরের বাড়ির বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী পেশায় একজন গাড়িচালক। বিদেশে গিয়ে কাজ করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিনি প্রতারণা চক্রের সদস্য দিদার শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দিদার তাকে কানাডায় পাঠানো এবং সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য ভিসা ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কানাডায় গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশায় ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে দিদার শেখকে মোট ১৮ লাখ টাকা দেন।
পরবর্তী সময়ে চক্রটি ভুক্তভোগীকে কানাডার স্টিকার ভিসা সংযুক্ত একটি পাসপোর্ট ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান টিকিট দেয়। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টারে উপস্থিত হন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার পাসপোর্টে থাকা কানাডার ভিসা পরীক্ষা করে সেটি জাল বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে ভুক্তভোগী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার তদন্তে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর অভিযুক্ত দিদার শেখকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরে তার দেয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরেক সদস্য সোহেল রানাকে ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া দিদার শেখ ও সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
সিআইডি জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, অবস্থান ও সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে অনুসন্ধান জোরদার করা হয়। পরে তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসান মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান মুরাদ প্রতারণার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। মামলার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা, অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ, জাল ভিসা সংগ্রহ ও সরবরাহে সম্ভাব্য ভূমিকা এবং প্রতারণার অর্থ লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে জাল ভিসা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার হাসান মুরাদকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। গ্রেফতার ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক অভিযুক্ত এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা দেয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে কিংবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার বা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।