
খুলনায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, দেয়ালে রবীন্দ্রবিরোধী পোস্টার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৮

সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ও স্বজনরা। ছবি: সময় সংবাদ
টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের (২৮) বাড়িতে চলছে মাতম। ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা, অন্যদিকে মা ও স্ত্রীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজ তিতাস শেখ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার বাবাও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং ছোট ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিতাস শেখ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে এখনও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নেয়ার কথা ছিল তিতাসের। কিন্তু একটি বুলেট তার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।
স্বামীকে হারিয়ে সুমাইয়া আক্তার শুধু বিলাপ করে বলছেন, ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না! আল্লাহ, আমি এখন কী করব!’
অন্যদিকে শোকে পাগলপ্রায় মা রেখা বেগম। তার ভাষ্যমতে, গেল বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। তিতাস তখন বলেছিলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ ছেলের এই কথা যে শেষ কথা হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শুধু বিলাপ করে চলেছেন তিনি।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।
পরে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিতাসের মরদেহ রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) রয়েছে। মরদেহটি আনতে সেখানে ছুটে গেছেন ছোট ভাই সেনাসদস্য আকরাম হোসেন।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিতাসের মরদেহ পৌঁছাবে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এরপর বিকেল ৪টার মধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।