
কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৪

নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজশাহীতে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে এ জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
জিজ্ঞাসাবাদে মুখোমুখি হয়েছেন মামলার আসামি রাজশাহী বিভাগের তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ ও রাজশাহী কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া মামলার সাক্ষী হালিমা খাতুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জ কারাগারের সাবেক এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের বর্তমান সিনিয়র জেল সুপার।
পিবিআই জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা এ সময় পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের সাবেক ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ বলেন, আমরা চাই সত্য বের হয়ে আসুক। তিনি তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানান।
রাজশাহী কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারাবিধি মেনেই পিন্টুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক রানা জানান, পিন্টুর মৃত্যুর প্রায় ৯ বছর ৯ মাস পর, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন তার ভাই নাসিম আহমেদ রিন্টু। আদালত পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আসাদুজ্জামান খান ও আনিসুল হকসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তৎকালীন আইজিপি, কারা কর্মকর্তা ও কারা চিকিৎসকও আছেন। অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পিন্টুকে হত্যা করেছেন।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পিন্টুর জন্য কারাগারেই চিকিৎসক ডাকা হয়েছিল, তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। তবে তখন কারাগারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০০১ সালে ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পিন্টু। পরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হন। পিলখানা হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন এবং অস্ত্র লুটের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।
২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। অসুস্থ হলে ২৬ এপ্রিল হাসপাতালে পাঠানো হয়, পরে আবার কারাগারে নেয়া হয়। ৩ মে দুপুরে কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ৭(১) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।