
বিথীকে হত্যার পর সীমান্তে আত্মগোপনে ছিলেন মজনু: পিবিআই
প্রতিবেদক, হিলি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৫

দীর্ঘ চার বছর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকার পর আবারও দিনাজপুর-হিলি চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ চালু হয়েছে। এতে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক, পথচারী ও স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ শেষে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির কোথাও অর্ধেক কাজ হয়ে পড়ে ছিল, আবার কোথাও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় কাজ শুরুই করা যায়নি। ফলে হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা থেকে মহিলা কলেজ এবং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিল আমদানিমুখী শত শত পণ্যবাহী ট্রাকসহ নানা যান।
কোথাও অর্ধেক কাজ হয়ে পড়ে আছে, আবার কোথাও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ। এতে হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা থেকে
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি কারক মুশফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ফোরলেন সড়কের নির্মাণ কাজ। এতে আমরা অনেক খুশি। বিগত সময়ে কাজ শুরু হয়েছিল কিন্তু শুরুর পর অল্প কিছু কাজ করে ঠিকাদার চলে যায়। এতে জনদুর্ভোগ আরো বেশি বাড়িয়ে তুলে আমাদের। আবারও কাজ শুরু হয়েছে আমরা আশার আলো দেখছি আমরা চাই কাজটা যেন দ্রুত সম্ভব সমাপ্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হিলি স্থলবন্দর এখানে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে থাকে। রাস্তার কাজ শেষ হলে ব্যবসায়দের অনেক ভোগান্তি কমবে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য অনেকটা কর্মচঞ্চলতা ফিরে আসবে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, জিরো পয়েন্ট থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত চার লেন সড়কে নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যেসব স্থানে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ ও পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে সেখানে জোরেশোরে কাজ চলছে। হিলি আয়তনের ছোট হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। হিলি স্থলবন্দর এর গুরুত্ব বিবেচনা নিয়ে আমরা দ্রুততম সময়ে সড়কের নির্মার কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, এসব স্থানে এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি সে সব জায়গায় জমি বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। জমি বুঝে পাওয়া মাত্রই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিতে আমাদের পর্যাপ্ত জনবল রয়েছে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী আমানুল্লাহ আমান বলেন, হিলি ফোরলেন সড়কে নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত জুনে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের ভূমি অধিকরণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৫০ জন জমির মালিককে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জমি বুঝে পাওয়া মাত্রই নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। হিলি স্থলবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে বিভিন্ন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ করাই আমাদের লক্ষ্য।
হিলি জিরো থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। আর ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় হবে ৬৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।