
বর্জ্য অপসারণে চাঁদা দাবি, গুলশান সোসাইটি অফিসে বসল পুলিশি পাহারা
সোহাগ হায়দার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১

এক কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পঞ্চগড়-বোদা জাতীয় মহাসড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার অংশের বেহাল দশা। ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী। ছবি: সময় সংবাদ
সংস্কারের পেছনে ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অথচ কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বেহাল হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়-বোদা জাতীয় মহাসড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার অংশ। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। এত বিপুল অর্থ ব্যয়ে সংস্কারের পরও কেন দ্রুত সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলো? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা থেকে বোদা উপজেলার ভাসাইনগড় পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়কের কোথাও উঠে গেছে পিচের আস্তরণ, কোথাও বেরিয়ে এসেছে পাথর। আবার কোথাও সড়ক ফুলে উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের মানে অনিয়ম ও দায়সারা মেরামতের কারণেই দ্রুত নষ্ট হচ্ছে সড়কটি। সংস্কারের পরেও বেহাল অবস্থায় এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। বিশেষ করে গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে পাথর ফেলে মেরামত করা হচ্ছে। ফলে কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে সড়ক।
বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান মতিন সময় সংবাদকে বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এখন বিভিন্ন স্থানে ফেটে ফুলে গেছে। আবার কোথাও পাথর বেরিয়ে গেছে। এতে মোটরসাইকেলসহ ইজিবাইকগুলো নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’
আশরাফ আলী নামে এক মোটরসাইকেল চালক সময় সংবাদকে বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু নাম মাত্র সংস্কার করা হচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই। পরিকল্পনার অভাবে যেমন সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে- তেমনি ঝুঁকিতে সড়কটি ব্যবহারকারীরা। আমরা নামে মাত্র সংস্কার চাই না, আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।’
এ দিকে সড়কটির কাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
পঞ্চগড়ের সচেতন মহলের মেহেদী হাসান খান বাবলা সময় সংবাদকে বলেন, ‘সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংস্কারকাজের গুণগতমান যাচাই এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর টেকসই মেরামত জরুরি। কারণ এই সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ পঞ্চগড়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, ‘নিয়মিত সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে। মূলত অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ধাক্কামারা থেকে ভাসাইনগড় পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।