
ন্যায্য হিস্যার ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ ভারতকে এক বিন্দু ছাড় দেবে না: আখতার
নূরে আলম
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫

৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা হয়। ফাইল ছবি
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বপ্ন ছিল গণতান্ত্রিক ও শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। তবে স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালে আগস্টে ঘটে ক্ষমতার পালাবদল।
সাধারণ মানুষ যখন মুক্তির স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক সেই সময়ে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ। এ ঘটনাকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
সেনাবাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ৬ নভেম্বর রাত থেকে সিপাহী-জনতার মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন জিয়াউর রহমান। বিশ্লেষকদের মতে, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা হয়। সব দলের জন্য রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করেন শহীদ জিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘সিপাহি-জনতার এক হওয়ার মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার একটা সূচনা হয়। এরপরই জাতির প্রয়োজনে মেজর জিয়াউর রহমানকে দায়িত্বে বসানো হয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন। যেটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার বক্তব্য ছিল। আর ব্যক্তির বাক স্বাধীনতা অর্থাৎ সংবাদপত্র এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা দিলেন তিনি। আবার বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরিতে দল যেন গঠিত হয়, তা উৎসাহিত করলেন।’
৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবকে জাতীয় ঐক্য ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিদেশি শক্তির আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার দিশা পায় বাংলাদেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, ‘৭ নভেম্বর আমাদের একটা বড় অর্জন। কিন্তু সেই অর্জনটাকে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় আমাদের কাজে লাগাতে হবে। সেই কাজটা শহীদ জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। আর আমাদের এখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে।’
সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।