
বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ বিশ্বনাথের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৮

সুন্দরবনে দস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার হওয়া জেলে ও জব্দকৃত অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ড সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনে বনদস্যু ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযানে দস্যুদের কবল থেকে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ শীর্ষক দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সদস্যরা আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় মুক্তিপণের দাবিতে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে।
এমন খবরের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন দোবেকীর একটি দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। উভয়পক্ষের গোলাগুলির একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের প্রতিরোধে টিকতে না পেরে দস্যুরা জিম্মি জেলেদের ফেলে সুন্দরবনের গহিনের দিকে পালিয়ে যায়। তবে ঘন বনের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে কোনো দস্যুকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে দস্যুদের আস্তানা থেকে একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সাথে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জিম্মি পাঁচ জেলেকে। উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন- সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশের মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া সেল জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র ও কার্তুজ জব্দের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযানের বিষয়ে কোস্ট গার্ড জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ কবীর শামিত বলেন, ‘সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’