
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: তিন স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা বন্ধের পর মেট্রোরেল চলাচল শুরু
প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৯

গাজীপুরে কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. ফারুক মিয়া নামের এক পলাতক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। তবে অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মো. হাবিবুর রহমানকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুন সন্ধ্যায় কোনাবাড়ীর আমবাগ মধ্যপাড়া এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় ফারুক ও তার সহযোগীরা। পরে ফারুকের বোনের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তিন দিন পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৯ জুন পুলিশ ফারুক ও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৮ সালে জামিন পাওয়ার পর থেকেই আসামি ফারুক পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল ফারুকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আবু তাহের নয়ন বলেন, ‘এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি এবং বাদীপক্ষও সন্তুষ্ট।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক ফারজানা ফেরদৌস গত ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে যোগদানের পর মামলাজট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেন। যোগদানের সময় বিচারাধীন প্রায় সাত হাজার মামলার মধ্যে গত এক মাসে তিনি ১২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন, যা বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।