
সাবিহ উদ্দিন আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আটক শ্রম পরিদর্শক মো. শাহাব উদ্দিন।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের নতুন লাইসেন্স ও নবায়ন করে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মো. শাহাব উদ্দিন নামে এক শ্রম পরিদর্শককে হাতেনাতে আটক করেছেন হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ সময় তিনটি হোটেল থেকে নেওয়া মোট ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে কুয়াকাটা প্যালেস ও হোটেল শৈবালে লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে ওই শ্রম পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। পরে রাত ৯টার দিকে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার সারাদিন কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করেন মো. শাহাব উদ্দিন নামে ওই শ্রম পরিদর্শক। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হোটেল কর্তৃপক্ষকে মামলার ভয় দেখানো হতো।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে ওই শ্রম পরিদর্শক বিভিন্ন হোটেলে গোপনে মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে আলোচনা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন বলেন, কয়েক দিন আগে ওই শ্রম পরিদর্শক তাদের হোটেলে গিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরবর্তীতে আজ বিকেলে হোটেলে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দিলে মামলা তুলে নেওয়া এবং আর হয়রানি না করার কথা জানান। এরপর তারা টাকা দেন।
হোটেল সি-লেভেল এর মালিক মো. সবুজ জানান, মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কয়েক মাস আগে তার কাছ থেকে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার আবার এসে ৮ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি নগদে ৫ হাজার দেন এবং বাকি ৩ হাজার টাকা রাতে বিকাশে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
হোটেল রিয়াজ ( আবাসিক) মালিক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ খান বলেন, ওই কর্মকর্তা তার পরিচয় দিয়ে প্রতিটি হোটেলের ভিজিটিং কার্ড এবং নাম নিয়ে একটি নোটিশ পাঠিয়ে দেয়। তারপর ভয়ভীতি দেখিয়ে লাইসেন্স করতে হবে বলে কখনো ৩০ হাজার, কখনো ৪০ হাজার টাকা চাইত। লাইসেন্স না করলে তার নামে মামলা দিয়ে দেয়। এভাবে টেকনিক খাটিয়ে তিনি ঘুষ নেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া বলেন, গত দুই বছর ধরে ওই কর্মকর্তা এভাবে গোপনে হোটেল মালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। এ বিষয়ে তাকে দুইবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে কীভাবে লাইসেন্স করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলেও তিনি তা করেননি, বরং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই কর্মকর্তাকে কুয়াকাটা থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার বলেন, সরকারিভাবে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নবায়ন ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা। এখানে নগদে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগত সফরে কুয়াকাটায় গিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, শ্রম পরিদর্শক মো. শাহাব উদ্দিন বিভিন্ন স্থানে গিয়ে টাকা নিচ্ছেন। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে, যাতে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে কর্মরত। তিনি ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা এবং গত চার বছর ধরে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন।