
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮

২৫ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
একই বিসিএস ব্যাচের অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারে অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর প্রভাষক পদে আটকে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত ২৫ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
কর্মসূচি থেকে দ্রুত পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি, বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং পদস্বল্পতা নিরসনে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন দাবি জানান তারা।
পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, অন্য ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে এবং ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের ৩৭তম বিসিএসের অনেক কর্মকর্তা এখনো নবম গ্রেডের প্রভাষক পদে কর্মরত। এতে একই বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে পদমর্যাদা, আর্থিক সুবিধা ও পেশাগত অগ্রগতিতে বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সংকট দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালে এক দফায় ১ হাজার ৮৭০ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে যোগ্য অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৭তম বিসিএসের পদোন্নতি নিয়ে গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সভার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও পদোন্নতির সরকারি আদেশ বা জিও জারি হয়নি বলে দাবি তাদের।
ডিপিসির সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শিক্ষা ক্যাডারে অনুমোদিত পদের তুলনায় উচ্চতর পদের সংখ্যা কম থাকায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জট তৈরি হচ্ছে। মাউশির তথ্য উল্লেখ করে তারা জানান, প্রভাষক পদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৮২টি। বিপরীতে সহকারী অধ্যাপক পদ ৪ হাজার ৪৫১টি।
এই সংকট নিরসনে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি বা অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে প্রস্তাবটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ডিপিসির সুপারিশের আলোকে ৩৭তম বিসিএসসহ যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতির আদেশ জারি, বকেয়া আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা, সুপারনিউমারারি (অতিরিক্ত) পদ সৃষ্টি ও বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ।
কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পদোন্নতি জট দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষা ক্যাডারে পেশাগত হতাশা ও বৈষম্য আরও বাড়বে। তাদের মতে, পদস্বল্পতা নিরসন এবং নিয়মিত পদোন্নতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।