
তাহসিফ সৌরির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে যা জানা গেল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৮

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ৯ মামলায় রায় জালিয়াতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিষয়ে আদেশের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা ছিল।
এর আগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ৯ মামলায় জালিয়াতির অভিযোগে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করেন আপিল বিভাগ। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন আদালত।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় দেন। ওই রায়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’-এর ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী ৬০ শতাংশ নারী কোটা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন চূড়ান্ত ফল বাতিল করে ছয় মাসের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা প্রণয়ন এবং রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, মূল ৫৮ জন আবেদনকারীর বাইরে আরও ৬৪ জনকে নতুন সহ-আবেদনকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে এফিডেভিট করা হয়। তবে নিয়মিত সেকশন-প্রক্রিয়া, নাম তালিকাভুক্তকরণ কিংবা বিবাদী পক্ষ—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদফতরকে নোটিশ দেয়া ছাড়াই নথি সরাসরি বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয়। মাত্র এক দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া মূল শুনানির মাত্র চার দিনের মাথায় হাইকোর্ট রায় দেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই রায়ে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া নতুন সহ-আবেদনকারীদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এমন মোট ৯টি মামলায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। শুনানির সময় মামলার নথিতে প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এলে আপিল বিভাগ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, মূল আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয়েছিল, আবার কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়েছিল। আমি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিলাম, তবে সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল।
তিনি জানান, আদেশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।