
নভেম্বরের শুরুতেই টানা ৩ দিন ছুটি মিলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪

ছবি: সংগৃহীত
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবেন। এ বছর এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান।
তারা জানান, বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরের বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকে।
তবে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়তি মানসিক চাপও তৈরি হয়। এ সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বরাবরের মতো পাসের হারে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। তবে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছেন ছাত্ররা। এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন, পাসের হার ৫৬.৩১ শতাংশ। আর ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন, পাসের হার ৪৭.৭৫ শতাংশ।
এছাড়া এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ ছাত্রী।
তবে এবার পাসের হার গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। চলতি বছর গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ আর জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
চলতি বছর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। গত বছর এ সংখ্যা ছিলো ২০২। শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।