
‘দৃশ্যম ৩’: মুক্তির ১২ দিনেই আয় ছাড়াল ৫০০ কোটি রুপি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮

আসন্ন সিনেমা ‘রানাবালি’তে অভিনয় করতে গিয়ে এই মানবিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পান অভিনেত্রী। ছবি: সংগৃহীত
পর্দায় অভিনীত কোনো চরিত্র কখনো কখনো শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে। সেই প্রভাব থেকেই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। দরিদ্র ও অনগ্রসর ৪০০টি পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে শুধু খাদ্যসহায়তা নয়, পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভাবনাও।
আসন্ন সিনেমা ‘রানাবালি’তে অভিনয় করতে গিয়ে এই মানবিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পান অভিনেত্রী। সিনেমাটিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানান রাশমিকা। ভিডিওতে দেখা যায়, তার প্রতিনিধিদল সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে চাল, ডাল, আটা, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০০টি অসচ্ছল পরিবারের তিন মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন রাশমিকা। এর ফলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্যব্যয়ের চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে অভিনেত্রীর পরিকল্পনা কেবল এক দফা সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস অন্তর নতুন করে ৪০০টি অসচ্ছল পরিবারকে এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে আরও অনেক পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
রাশমিকার এই উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো, তিনি পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রেখেছেন। তার প্রত্যাশা, তিন মাসের খাদ্যব্যয় বেঁচে গেলে পরিবারগুলো সেই অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে। পরে সেই অর্থ সন্তানদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন কিংবা আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিয়ের পর স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে রাশমিকার প্রথম সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘রানাবালি’। ফলে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আগে থেকেই রয়েছে। এর মধ্যেই তার মানবিক উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এনেছে অভিনেত্রীকে।
তারকাদের জনপ্রিয়তা সাধারণত তাদের অভিনয়, চলচ্চিত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা ঘিরে আলোচনায় আসে। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
রাশমিকার এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা অসচ্ছল পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতার পথেও সহায়ক হতে পারে। কারণ, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করা।