
ডেটা সেন্টারে বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করল গ্রামীণফোন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬৩০ কোটি ডলার (৪৭০ কোটি পাউন্ড) মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় হ্যাকিং বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাইন্যান্স জানিয়েছে, অন্যান্য ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ক্ষতির পুরোটা পূরণ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে একজন হামলাকারী অননুমোদিতভাবে অর্থ উত্তোলন করতে সক্ষম হয়।
দুটি ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকিং গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেটর’কে দায়ী করেছে। তাদের দাবি সত্য হলে, এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে হওয়া ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিংকেও ছাড়িয়ে যাবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাইন্যান্সে হামলার বেশ কয়েকটি কৌশলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট আগের সাইবার হামলার মিল রয়েছে। এর মধ্যে বাইবিটের হ্যাকিংয়ের ঘটনাও রয়েছে।
টিআরএম ল্যাবসের বৈশ্বিক নীতি বিভাগের প্রধান আরি রেডবোর্ড বিবিসিকে বলেন, বাইন্যান্সে এই হামলা ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’। এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। হামলাকারীর কাছে এখনো চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। ফলে এসব অর্থের উৎস শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা এখনো চলছে।
আরেক ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসও জানিয়েছে, এ হামলার সঙ্গে উত্তর কোরীয় গোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের ‘দৃঢ় বিশ্বাস’ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের প্রধান এরিক জার্ডিন সব ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকায় এসব প্ল্যাটফর্ম হ্যাকারদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু।
হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি বাইন্যান্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তারা।
হামলার প্রভাব পড়েছে Binance.com-এ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের জন্য ট্রেডিং সেবা দেয়া আলাদা প্ল্যাটফর্ম Binance.US জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়েনি।
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী ই হে একাধিক পোস্টে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে চুরি হওয়া সম্পদ জব্দে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুটি বড় ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম টেথার ও সার্কেল মোট প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে। সার্কেলের প্রধান নির্বাহী জেরেমি অ্যালেয়ার বলেন, বাইন্যান্স-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য অপব্যবহারের খবর তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৮০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে তার প্রতিষ্ঠান।
সার্কেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন ডলার-সমর্থিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউএসডিসির ইস্যুকারী ও সহ-নির্মাতা।
অন্যদিকে, টেথারের প্রধান নির্বাহী পাওলো আরদোইনো বলেন, বাইন্যান্স এক্সচেঞ্জে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। তিনি বলেন, ক্রিপ্টো শিল্প ও অংশীদারদের সুরক্ষা দেয়া তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। টেথার ইউএসডিটি নামে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যু করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো কোম্পানি ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল জানিয়েছে, তারাও অংশীদারদের সঙ্গে মিলে চুরি হওয়া অর্থ জব্দ করেছে।
এদিকে, আরেক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস জানিয়েছে, এই ঘটনায় তাদের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বাইন্যান্স নিরাপত্তা সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্রিপ্টো শিল্পের কয়েকজন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানটিতে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচার সুযোগ দেয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের মুখেও রয়েছে এক্সচেঞ্জটি। ২০২৪ সালে বাইন্যান্স জানিয়েছিল, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা সম্পদের পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
হ্যাকিংয়ের সতর্কবার্তার পর বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ইথেরিয়াম ও সোলানাসহ অন্যান্য প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।