
বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৪

‘বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
নিয়মিত ব্যয়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের সুস্থতা সম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল, আধুনিক অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান তাদের।
রোববার (১৯ অক্টোবর) ওয়ার্ল্ড স্পাইন ডে তথা ‘বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময় স্পাইন (মেরুদণ্ড) ব্যথা বা কোমরব্যথায় ভুগে থাকেন। ফলে মেরুদণ্ডের সমস্যা ও কোমরব্যথা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক শারীরিক ভঙ্গি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, স্পাইন (মেরুদণ্ড) শরীরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যেটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মেরুদণ্ডের সমস্যা ছাড়া জীবনযাপন করেন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মেরুদণ্ড স্বাভাবিক ক্ষয়জনিত পরিবর্তন ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি সম্ভব।
তিনি বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থ ও সবল রাখতে আমাদের যা যা করা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই আমরা জানি না। অথচ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যয়াম এবং শারীরিক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলো মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সভাপতির বক্তব্যে নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ.এফ.এম মোমতাজ হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করছি। তবে সময়ের সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা জরুরি।
নিউরোসার্জারির বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আশিক আহসান বলেন, মেরুদণ্ডের সমস্যা বা কোমরব্যথা একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসমস্যা। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর ও মুখরোচক খাবার গ্রহণ, রাত জাগা এবং নগরজীবনের মানসিক চাপ মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইমাম হোসেন খান বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উচ্চতা অনুযায়ী উপযুক্ত ওজন বজায় রাখা জরুরি। দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মের সময়ও মেরুদণ্ড আঘাত লাগতে পারে বা ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। প্রচলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময় কোমরব্যথায় ভুগতে পারেন।
নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা ইশরাত জাহান (রিফাত) বলেন, আজীবন মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সঠিক শারীরিক ভঙ্গি ও কর্মপদ্ধতি মেনে চলতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক শারীরিক ভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি এমনকি দাঁড়ানো বা বসার ক্ষেত্রেও মেরুদণ্ড সোজা রাখা প্রয়োজন।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, মেরুদণ্ডের সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসমস্যা নয়; এটি দেশের অর্থনীতি ও কর্মক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। কোমরব্যথায় কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, উৎপাদনশীলতা কমে এবং চিকিৎসাব্যয় বৃদ্ধি পায়। শুধু কোমরব্যথার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. আশিক আহসান ও নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইমাম হোসেন খান। সেমিনারের আগে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।