
যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে নিজেকে ব্রাজিলের ‘প্রকৃত নেতা’ ঘোষণা বলসোনারোর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫০

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পশ্চিম জেরুজালেমে ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের একদিন পর, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানারের পাশ দিয়ে এক নারী হেঁটে যাচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও কোনো জোটকেই স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। ফলে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরাইলের এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন জিততে পারে, যা বর্তমান সম্মিলিত ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই চলে আসতে পারে, যদিও কোনো জোটেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
৫ লাখের বেশি বিশেষ ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা দ্বৈত খামযুক্ত ব্যালট এখনো গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোট গণনার পর আসন বণ্টনের চিত্র বদলে যেতে পারে। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্বৈত খামযুক্ত ব্যালট গণনা শুরু হয়েছে।
এই ব্যালটের মধ্যে রয়েছেন সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকে ভোট দেয়া ব্যক্তিরা। এ ছাড়া কারাবন্দি, চিকিৎসাকর্মী, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম ব্যক্তি এবং বিদেশে ইসরাইলি মিশনে কর্মরত প্রতিনিধিদের ভোটও এ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর-এর হামলা এবং গাজায় সংঘটিত গণহত্যার পর অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীর পদের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ভোটে পরাজিত হয়েছেন বলা যাচ্ছে না।
নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর, আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করবেন, তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বুধবার জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে এক বৈঠকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তিনি বলেন, ‘এটি ইসরাইলি সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। ইসরাইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি।’
হারজোগ আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে পাওয়ার আশা করছেন। এরপর সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের পর আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, যাতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো যায়। সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’
সূত্র: আল জাজিরা