
যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিটি শিশুকে’ স্পেসএক্সের শেয়ার দেয়ার ঘোষণা ইলন মাস্কের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
ভারত সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এই সফরে তিনি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যাচ্ছেন না এবং তার এই সফরকে ঘিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গণে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এরপর তিনি গুজরাটের জামনগরে একটি তেল শোধনাগার পরিদর্শন করবেন।
উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সি৫+১ সম্মেলন শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রুবিও এখনও উজবেকিস্তানেই অবস্থান করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই সফরসূচি ঘিরে ভারতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী জয়শঙ্করকে রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মুম্বাই ভ্রমণ করতে হচ্ছে।
তার এ মন্তব্যের পর বিরোধীদলের নেতারা মোদি সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ তুলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজ দেশেই একধরনের ‘তলব’ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
বাণিজ্য, শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যখন কিছুটা টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই এই বিতর্কের সূত্রপাত হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়শওয়াল জানিয়েছেন, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে।
মুম্বাইয়ে বৈঠকের পর রুবিও গুজরাটের জামনগরে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধনাগার পরিদর্শন করবেন। এটি বিশ্বের বৃহত্তম একক-সাইট তেল শোধনাগার। রিলায়েন্স আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসেই কোয়াডভুক্ত জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি ঘুরে গিয়েছিলেন মার্কো রুবিও। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানাচ্ছে, এবারের সফরের মূল অগ্রাধিকার অঞ্চল হলো জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ। আর ভারতের জ্বালানি খাতের কেন্দ্রবিন্দু হলো জামনগর।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের চড়া দাম ক্ষমতাসীন প্রশাসনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক তেল কূটনীতির মূলে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও দেশটির তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন বিশ্বজুড়ে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর রিলায়েন্সই এখন ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
একই সঙ্গে টেক্সাসে ৫০ বছরের মধ্যে নির্মিত হতে যাওয়া প্রথম তেল শোধনাগারেও প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে রিলায়েন্স, যা মার্কিন প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মূলত এসব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি রাজনীতির কৌশলগত হিসাব-নিকাশ থেকেই ওয়াশিংটন এবার নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বৈঠকের চেয়ে মুম্বাই ও জামনগরের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কূটনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।