
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলবে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:১৮

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ফাইল ছবি
মধ্যবর্তী নির্বাচনে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের ধারাবাহিক জয়ের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
পোস্টে ওবামা লিখেছেন, ‘আজ রাতে (স্থানীয় সময় মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর) মার্কিন জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তারা এমন রাজনীতি চায়, যা মানুষকে বিভক্ত করার পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ করে। পাশাপাশি তারা এমন নেতৃত্ব চায়, যারা জনগণের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, প্রার্থীরা এমন সব এলাকায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার সাহস দেখিয়েছেন, যেসব এলাকাকে একসময় ডেমোক্র্যাটদের জন্য জয় পাওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হতো।
ওবামা বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদে আরও দুই বছর বাকি। তবে এখন আমাদের কাজ হলো, নতুন উদ্যমে মাঠে নামা, আরও ক্ষতি হওয়া ঠেকানো এবং ভবিষ্যতের জন্য ভিত গড়ে তোলা।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক বিশাল রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। সবশেষ ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও ভরাডুবি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনী ২১৮টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যেটরা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা ১২৬টি আসনে জয় পেয়েছে।
এছাড়া ১০০ আসনের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৫১টি আসনে জয় আগেই নিশ্চিত করেছে বিরোধীরা। সবশেষ ফলাফল অনুযায়ী, উচ্চকক্ষে বিরোধীার ৫৩ আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি এখন পর্যন্ত ৪১টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ৩টিতে এগিয়ে রয়েছে।
এই জয়ের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের একক আধিপত্য বা ‘ট্রাইফেক্টা’র অবসান ঘটল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও হোয়াইট হাউস–তিন জায়গাতেই নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল রিপাবলিকান পার্টি। কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানেই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মাধ্যমে বড় ধরনের নীতিগত ও আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল ক্ষমতাসীন প্রশাসন।
এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেট হাতছাড়া হওয়া রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন ছিল, কারণ এবার সিনেটের অল্পসংখ্যক আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু একাধিক রিপাবলিকান দুর্গে ডেমোক্র্যাটদের নাটকীয় জয় সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছে।