
ইসরাইলকে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৮

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে এবার মোট খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রচারণাটি এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রচার হতে পারে এবং এর মোট খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন (১২০০ কোটি) ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করছে নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ‘ওপেন সিক্রেটস’।
ব্যয়ের সিংহভাগই আসছে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো থেকে, যারা সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (সুপার প্যাক) নামে পরিচিত এবং তারা ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলেছে।
শীর্ষ ব্যক্তিগত দাতা হলেন বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক, যিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন, বিশেষ করে টেক্সাসে যেখানে তার অনেক কোম্পানির সদর দফতর অবস্থিত।
বিবিসি ভেরিফাই এই পরিসংখ্যান এবং অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখেছে।
কত খরচ হয়েছে?
ব্যক্তি, দল এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কমিটিগুলো (প্যাক) প্রার্থীদের সরাসরি কী পরিমাণ অর্থ দিতে পারবে, সে বিষয়ে নিয়মকানুন রয়েছে।
কিন্তু সুপার প্যাকগুলো ব্যক্তি, করপোরেশন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটি থেকে সীমাহীন অনুদান গ্রহণ করতে পারে। তারা সেই টাকা সরাসরি প্রার্থীদের দিতে পারে না, কিন্তু পরোক্ষভাবে তাদের সমর্থন করার জন্য তা ব্যয় করতে পারে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশন (এফইসি)-এর অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দাখিলকৃত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৯.৫ বিলিয়ন (৯৫০ কোটি) ডলারেরও বেশি ব্যয় করা হয়েছে।
এর অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন (৫৫০ কোটি) ডলার প্যাক ও সুপার প্যাকগুলোর অংশ, এবং গত কয়েক মাসে তাদের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
প্রার্থী, দল এবং বহিরাগত গোষ্ঠীগুলোকে এফইসি-র কাছে তাদের ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়, কিন্তু এর পূর্ণাঙ্গ হিসাব মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাওয়া যাবে না।
তবে, ওপেন সিক্রেটস বিগত চক্রগুলোর প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে মোট পরিমাণ ১১.৯ বিলিয়ন ডলার হবে বলে অনুমান করেছে।
এটি ২০২২ সালের সর্বশেষ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয় করা অর্থের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি হবে।
কোন দাতারা সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন?
উদারপন্থি গবেষণা সংস্থা ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ৪০ জন দাতা ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২.৪ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই সময়ের জন্য একটি রেকর্ড।
মার্কিন নির্বাচনী অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ মাইকেল বেকেল বলেছেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যয় রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে এবং এই নির্বাচনে অর্থের সিংহভাগই আসছে সবচেয়ে ধনী দাতা ও গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে।’
ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থাও প্যাক-এ অনুদান দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শতকোটিপতি অর্থলগ্নিকারী জর্জ সোরোসের প্রতিষ্ঠিত জিওসর কর্প এবং ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম, উভয়ই উদারপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে সম্মিলিতভাবে ১০২ মিলিয়ন (১০ কোটি ২০ লাখ) ডলার অনুদান দিয়েছে।
সোরোস ছাড়াও, নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মাইকেল ব্লুমবার্গই ডেমোক্র্যাটিক দলের সবচেয়ে বড় দাতা, যিনি ৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছেন।
এফইসি-তে দাখিলকৃত নথি অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ট্রেডিং ফার্মের পরিচালক জেফ ইয়াস এবং একটি মার্কিন ব্যবসায়িক সরঞ্জাম সরবরাহকারী সংস্থার মালিক রিচার্ড ও এলিজাবেথ উইলাইনসহ বেশ কয়েকজন বিলিয়নিয়ার এই নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকানদের বিভিন্ন খাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছেন।
কিন্তু মাস্কই এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছেন, অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিনি প্রায় অর্ধ বিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন।
এই অর্থ কোথায় খরচ করা হয়েছে?
প্রচারণা ও রাজনৈতিক দলগুলো নানা উপায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অর্থ ব্যয় করে, যার মধ্যে রয়েছে মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কর্মী নিয়োগ এবং র্যালির মতো প্রচারমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন। তারা অভ্যন্তরীণ জরিপ পরিচালনার জন্যও অর্থ ব্যয় করে।
তবে, তহবিলের সিংহভাগই বিজ্ঞাপনে ব্যয় করা হয়, বিশেষ করে টিভিতে।
বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি চক্রে অক্টোবর মাসের শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনে ১১.১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে।
বেকেল বলেন, ‘প্রচলিত সম্প্রচার টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ব্যয়ের শীর্ষ সুবিধাভোগী হিসেবে রয়েছে, যদিও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে।’
মাস্কের ব্যয়ের মতোই, অ্যাডইমপ্যাক্টের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই অর্থের সিংহভাগ ব্যয় হয়েছে মিশিগান, টেক্সাস ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপনে। এর পরেই আছে আইওয়া ও মেইন অঙ্গরাজ্য।
সূত্র: বিবিসি