
ব্যর্থতা আড়াল করতেই বিরোধীদলের সমালোচনা করছে সরকার: জামায়াত আমির
শফিক মুন্সী
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৪২

মো. নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি
বাংলাদেশে গঙ্গার পানি না এলে ভারত থেকে কোনো পণ্যও এ দেশে আসবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, পানির ন্যায্য হিস্যা না দিলে কোনো করিডোর বা ট্রানজিট হবে না, এমনকি বাংলাদেশে কোনো ভারতীয় টিভি চ্যানেলও চলতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে অভিন্ন নদীর পানির দাবিতে মওলানা ভাসানীর মতো আবারও ঐতিহাসিক লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় যুবশক্তি’ আয়োজিত ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৬’-এ বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি বাংলাদেশে পানি না আসে, তাহলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না। যদি বাংলাদেশে পানি না আসে তবে কোনো করিডোর বা ট্রানজিট হবে না। নদীতে পানি না এলে ভারতীয় কোনো চ্যানেলও বাংলাদেশে চলবে না। আমরা মওলানা ভাসানীর ইতিহাসকে স্মরণ করতে চাই, যিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ, আবারও প্রয়োজন হলে আমরা লংমার্চের জন্য প্রস্তুত আছি।’
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প ও বৈদেশিক ঋণ প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘বর্তমান সরকার এখন ঋণের জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে, কিন্তু কেউ তাদের বিশ্বাস করছে না বা ঋণ দিচ্ছে না। জাপান আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র এবং তারা বাংলাদেশে অতীতেও বিনিয়োগ করেছে। তবে মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে সরকার জাপানের সঙ্গে কী চুক্তি করছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। সংসদে আলোচনা ও জনগণের মতামত ছাড়া কোনো জাতীয় চুক্তি পাস হতে দেয়া হবে না। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতকে যদি কোনো অবৈধ করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে বাংলাদেশের জনগণ তা রুখে দেবে।’
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন নিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ মতামত চেয়েছেন। সালাহউদ্দিন সাহেবের কাছে আমাদের মতামত দেয়ার কিছু নেই। তারা এখন নতুন করে আলোচনার কথা বলছেন, অথচ নির্বাচনের আগেই আলোচনার পাঠ চুকে গেছে। এখন শুধু বাস্তবায়নের সময়। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তরুণ প্রজন্ম ও শ্রমিকরা তা মেনে নেবে না।’
চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ালেও শ্রমিক ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। আমরা এই বৈষম্য মানি না। অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।’
জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব প্রকৌশলী ফরহাদ সোহেলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।