
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৩

মানবসভ্যতার শুরু থেকেই জাদুবিদ্যা ও জাদুকরদের নিয়ে মানুষের কৌতূহল রয়েছে। বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে অতিপ্রাকৃত শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার বিশ্বাস থেকে জাদুবিদ্যার চর্চা গড়ে উঠেছে। এরই একটি পরিচিত ধরন হলো কালো জাদু, যা প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী অন্যের ক্ষতি সাধন কিংবা নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হয়।
কালো জাদুর ইতিহাস বহু প্রাচীন। প্রাচীন মিসর, মেসোপটেমিয়া, পারস্য ও বিভিন্ন আফ্রিকান সমাজে জাদুবিদ্যা, আত্মা ও অতিপ্রাকৃত শক্তি নিয়ে নানা বিশ্বাসের প্রচলন ছিল। রোগ নিরাময়, ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা, অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা কিংবা শত্রুর ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান করা হতো।
প্রাচীন গুহাচিত্র, ধর্মীয় গ্রন্থ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে জাদুবিদ্যাসংক্রান্ত নানা ধারণার পরিচয় পাওয়া যায়। তবে এসব নিদর্শনের অনেক ব্যাখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
নৃতাত্ত্বিক স্যার জেমস জর্জ ফ্রেজার জাদুবিদ্যাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন, সাদৃশ্যভিত্তিক জাদু ও সংস্পর্শভিত্তিক জাদু। সাদৃশ্যভিত্তিক জাদুতে কোনো ব্যক্তির প্রতিরূপ তৈরি করে তার ওপর আঘাত করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও ক্ষতি হবে বলে বিশ্বাস করা হয়। অন্যদিকে সংস্পর্শভিত্তিক জাদুতে চুল, নখ কিংবা ব্যবহৃত কোনো বস্তুর মাধ্যমে ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তারের ধারণা প্রচলিত।
এ ছাড়া প্রচলিত বিশ্বাসে জাদুবিদ্যাকে সৃজনধর্মী, প্রতিরোধক ও ধ্বংসাত্মক এই তিন ভাগেও ভাগ করা হয়। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ নিরাময় কিংবা অশুভ শক্তি থেকে সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এক ধরনের জাদুর কথা বলা হয়। অন্যদিকে কালো জাদুকে মানুষের ক্ষতি, রোগ সৃষ্টি কিংবা জীবননাশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।
বিভিন্ন সমাজে জাদুকর, ওঝা কিংবা তথাকথিত আধ্যাত্মিক চিকিৎসকদের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা চিকিৎসক, ধর্মীয় নেতা ও ভবিষ্যৎবক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মানুষের ভয়, অসহায়ত্ব ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ প্রতারণার আশ্রয়ও নিয়েছেন।
বর্তমান সমাজেও দাম্পত্য কলহ, অসুস্থতা, আর্থিক সংকট কিংবা পারিবারিক সমস্যাকে কালো জাদুর প্রভাব বলে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এসব সমস্যার সঙ্গে কালো জাদুর সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অসুস্থতা বা পারিবারিক সংকটের ক্ষেত্রে বাস্তব কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ জরুরি।
ইসলামের দৃষ্টিতে জাদুবিদ্যা
ইসলামে জাদুবিদ্যা ও শয়তানি কর্মকাণ্ডের নিন্দা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে সূরা আল-বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে জাদুবিদ্যার প্রসঙ্গ এসেছে। সেখানে জাদুর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “তারা এমন বিষয় শিখত, যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে। অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা এর দ্বারা কারও ক্ষতি করতে পারে না।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১০২)
ইসলামে জাদুবিদ্যার অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আল্লাহর ওপর ভরসা, নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং শরিয়তসম্মত দোয়া ও আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কালো জাদু নিয়ে মানুষের কৌতূহল প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রচলিত সব ধারণা বা কাহিনিকে সত্য বলে গ্রহণ করা উচিত নয়। কুসংস্কার ও প্রতারণা থেকে দূরে থেকে কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ এবং বাস্তব সমস্যার যথাযথ সমাধান অনুসন্ধান করাই একজন সচেতন মানুষের দায়িত্ব।