
লন্ডনে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত মুফতি তাকি উসমানি
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৯

সায়েম হোসেন
সৌদি আরবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন ও তাঁর দল। বিশ্বের ২ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবকের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সায়েমের উদ্ভাবিত ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ প্রথম স্থান অর্জন করে। এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁরা পেয়েছেন ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পুরস্কার।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সায়েম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও পবিত্র কোরআনের শিক্ষা সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’। ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এ উদ্ভাবন প্রচলিত ব্রেইল পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে।
প্রচলিত ব্রেইল বইয়ের উঁচু বিন্দুগুলো অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সেগুলো শনাক্ত করা ও শেখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অনেক শিক্ষার্থী ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষায় ব্রেইল বই ও পাঠ্যসামগ্রী তুলনামূলক সহজলভ্য হলেও আরবি, বাংলা ও উর্দুর মতো ভাষায় এ ধরনের উপকরণের ঘাটতি রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা গ্রহণের উপযোগী ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী তৈরি এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সায়েম হোসেন বলেন, বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী দেশ এবং ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চিন্তা থেকেই এ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। যেসব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী নেই, তাঁদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার সুবাদে প্রতিবন্ধিতা ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
নিজের গবেষণার পেছনে সুপারভাইজার ড. এ কে এম আজাদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন সায়েম। তিনি জানান, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজাদের তত্ত্বাবধান তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে। পাশাপাশি দলের সদস্য ইয়াকুব শাকিলও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ভালো করছেন। সায়েমের এ অর্জন প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও তিনি আরও ভালো করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ড. খায়রুল ইসলাম আরও বলেন, বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গবেষণায় কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবে গেছেন। এ ছাড়া ছয় থেকে আটজন শিক্ষক জিএসটিতে রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।
সায়েম হোসেনের এ অর্জন শুধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, বরং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।