
পাকিস্তানের ওয়ানডে দল থেকে বাদ সাইম আইয়ুব, ডাক পেলেন ফারহান
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৮

ব্যালন ডি’অরে পঞ্চম হয়েছেন ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক মেসি। ছবি: রয়টার্স
ক্যারিয়ার সায়াহ্নে এসেও বিশ্বসেরাদের কাতারে লিওনেল মেসি। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর র্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থান অর্জন করে মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, তার শ্রেষ্ঠত্ব চিরস্থায়ী। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলেও এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ইউরোপের একাধিক তারকা ফুটবলারকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। ইংলিশদের ২৫ বছরের খরা কাটিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। তবে নজর ছিল লিওনেল মেসির দিকেও। এবারের আসরে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন তিনি।
মাত্র এক বছর আগে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা পাননি মেসি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভোটারদের আবারও মনে করিয়ে দেয়, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো এই আর্জেন্টাইনের রয়েছে।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড আটটি গোল করার পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্ট করেন। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি জেতেন সিলভার বল। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা পৌঁছে যায় বিশ্বকাপের ফাইনালে, যা ছিল বিশ্বকাপে তার তৃতীয় ফাইনাল। সেখানে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যানের বিচারে এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালকে ব্যালন ডি’অরের প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ভোটের হিসাবে হ্যারি কেইনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি কেউই।
২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ব্যালন ডি’অর জেতা রদ্রি এবার চতুর্থ হয়েছেন। আগস্টে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বলও জেতেন।
২০১৮ সালের মতো এবারও পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন মেসি। প্রায় দুই দশকের পেশাদার ক্যারিয়ারে তার ধারাবাহিক উচ্চমানের পারফরম্যান্সের আরেকটি উদাহরণ এটি।
সেরা দশে থাকা অন্য উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) খভিচা কাভারাস্খেলিয়া, যিনি ষষ্ঠ হয়েছেন। সপ্তম হয়েছেন গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে।
আগের বছরের ২৬তম স্থান থেকে বড় লাফ দিয়ে এবার অষ্টম হয়েছেন আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ধারাবাহিক গোল করার পাশাপাশি বিশ্বকাপে সাতটি গোল তার এই উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে।
সেরা দশের তালিকা সম্পন্ন করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসে এবং পিএসজির মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ।
ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা এসব তারকার পেছনে ফেলেই চূড়ান্ত তালিকায় পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছেন ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক মেসি।
লন্ডনে ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠানে অবশ্য উপস্থিত ছিলেন না মেসি। এর কয়েক দিন আগে, গত ২৩ অক্টোবর, স্পেনের ওভিয়েদোতে তাকে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টসে সম্মানিত করা হয়। দীর্ঘদিনের অসাধারণ পারফরম্যান্স, বিনয় এবং দলগত খেলায় তার অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
লন্ডনের অনুষ্ঠানে মেসির অনুপস্থিতির সময়ই শুরু হয় ইন্টার মায়ামি আয়োজিত যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘মেসি কাপ’। ২৫ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই টুর্নামেন্টকে ঘিরেও ব্যস্ত তিনি।
আটটি ব্যালন ডি’অর জিতে মেসি এখনো এই পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী ফুটবলার। ৩৯ বছর বয়সেও সেরা পাঁচে জায়গা করে নেওয়া প্রমাণ করে, বয়স বাড়লেও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য থাকতে পারে।