
এক সেশনে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩

দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন নেইমার। ছবি: এপি
মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার ঘটনায় ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমারকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ক্রীড়া আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের (ব্রাসিলেইরাও) একটি ম্যাচে এই ঘটনার জেরে সান্তোসের ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ব্রাজিলের সুপিরিয়র কোর্ট অব স্পোর্টস জাস্টিসের (এসটিজেডি) দ্বিতীয় শৃঙ্খলা কমিশন নেইমারের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ লঙ্ঘনের অভিযোগে এই শাস্তি দেয়। মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখার মতো আচরণকে এই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে সান্তোস ও বাহিয়ার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় নেইমারকে।
সাবেক বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) তারকা নেইমার প্রথমার্ধ থেকেই বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন। একপর্যায়ে নেস্তরের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে ফেলেন তিনি।
এরপর নেস্তর সরাসরি রেফারির কাছে গিয়ে ঘটনাটি জানান। রেফারি প্রথমে বলেন, তিনি কিছুই দেখেননি। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) তাকে বিষয়টি জানানোর পরই নেইমারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
এ ছাড়া রেফারির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, লাল কার্ড দেখার পর নেইমার প্রতিপক্ষ দলের বেঞ্চের দিকে ছুটে গিয়ে নেস্তরের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সতীর্থরা তাকে আটকে রাখেন।
মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেলমিরো ক্যাম্পোস নেইমারের আচরণকে ‘কথা গোপন করার চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এ ধরনের আচরণ প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও ক্রীড়ানৈতিকতাকে ক্ষুণ্ন করে।
ক্যাম্পোস বলেন, ‘নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করলে, প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি এবং এর অবৈধতা সম্পর্কে সচেতন থাকার বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
অন্যদিকে, নেইমারের আইনজীবীরা দাবি করেন, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনো শত্রুতা বা তীব্র বিরোধ ছিল না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা হাসি-ঠাট্টা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কথা বলছিলেন।
শুনানিতে আইনজীবী মার্সেলো মেন্দেস বলেন, ‘মুখ ঢেকে রাখার প্রতিটি ঘটনাই ভিনিসিয়ুস আইনের আওতায় পড়ে না। খেলোয়াড়টি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই নিজের হাত মুখের কাছে নিয়েছিলেন।’
শৃঙ্খলা কমিশনের কয়েকজন সদস্য নেইমারকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাবও করেছিলেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে নেইমারকে আপাতত দুই ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে আপিলের মাধ্যমে শাস্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ তার রয়েছে।