
১৭ বছর হয়েছে দমন, এবার মজুরি বাড়াতে আন্তরিক বিএনপি সরকার
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৬

দাকোপে সুন্দরবনসংলগ্ন রিসোর্ট পরিদর্শন করছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি: সময় সংবাদ
‘প্রাথমিকভাবে সুন্দরবনসংলগ্ন রিসোর্টগুলো পরিবেশবান্ধবভাবেই তৈরি হয়েছে। তবে এসব রিসোর্ট পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা হবে। নীতিমালা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বুধবার (১৪ নভেম্বর) খুলনার দাকোপে সুন্দরবনসংলগ্ন রিসোর্ট পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রিসোর্টগুলোতে শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ কিংবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম হচ্ছে কি না, তা পরিদর্শনে খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজমের নামে কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও জানার চেষ্টা করেছেন তারা। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কোনো কংক্রিটের ভবন তৈরি হয়নি, পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো স্থাপনাও চোখে পড়েনি। সেদিক থেকে রিসোর্টগুলো পরিবেশবান্ধব। তবে এগুলো পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রয়োজন। নীতিমালা মানা বাধ্যতামূলক হবে। কেউ তা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে অন্যরাও নিয়ম ভঙ্গের সাহস না পায়।’
সম্প্রতি পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগে সুন্দরবনসংলগ্ন এসব রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে বিনিয়োগ ও পর্যটন ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন উদ্যোক্তারা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রিসোর্ট পরিচালনার সুযোগ চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তারা।
রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমন বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এসব রিসোর্ট শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছে। রিসোর্টগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগের পাশাপাশি অনেক মানুষের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই ব্যবসা পরিচালনা করতে চান তারা। এজন্য একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা করে রিসোর্ট পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শাওন বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে এ অঞ্চলে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। রিসোর্টগুলো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি ও শর্ত মেনে ব্যবসা পরিচালনায় তারা প্রস্তুত। তবে হঠাৎ বন্ধের নির্দেশ না দিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ চান উদ্যোক্তারা।
খুলনার দাকোপে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে ১৮টি রিসোর্ট রয়েছে। স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পর্যটন সম্ভাবনা ধরে রাখতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসব রিসোর্ট পরিচালনার সুযোগ চান সংশ্লিষ্টরা।