
নড়াইলে প্রকৌশলীর বাড়িতে কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ
বাদশা সৈকত, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৪

কুড়িগ্রামে অজ্ঞাত রোগে পুড়ে যাওয়া ধানক্ষেত পরীক্ষা করছেন এক কৃষক। ছবি: সময় সংবাদ
কুড়িগ্রামে আমন ধানের মৌসুমে অজ্ঞাত রোগে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে একের পর এক ধানক্ষেত। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী দফায় দফায় কীটনাশক ও ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো সুফল না পেয়ে চরম লোকসান ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
জেলার রাজারহাট, উলিপুর ও সদরসহ প্রায় সবকটি উপজেলাতেই একরের পর একর জমিতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিষ আসার আগেই ধানক্ষেতের পাতা শুকিয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জমির পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে, আবার কোথাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, গত বছর আমন আবাদের সময় রোগটি সামান্য দেখা দিলেও এ বছর তা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত জমির কৃষকরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তিন থেকে চারবার স্প্রে করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এতে ফলন বিপর্যয়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে তারা।
রাজারহাট উপজেলার পূর্ব বালাকান্দি গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে তিন-চারবার ওষুধ দিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। জমির অর্ধেকের বেশি ধানগাছ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে, এসব গাছে কোনো ফলন হবে না।’ একই গ্রামের কৃষক রিপন ও বেলালসহ শতাধিক কৃষকের অবস্থা একই।
এদিকে রোগটির সঠিক কারণ ও প্রতিকার নির্ণয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল পোকার আক্রমণের কথা বলে দায় সারার অভিযোগ উঠেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক তানভীর আহমেদ সরকার জানান, ধানক্ষেতগুলো মিলিবাগ পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পোকা দমনে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহারের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। তবে জেলার কত হেক্টর জমির ধানক্ষেতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।