
মোংলায় তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় জাহাজডুবি, ৯ নাবিক উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৯

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত
জাপানকে বাংলাদেশের কয়েক দশকের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এখন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে।’
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে টোকিওতে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। আমাদের এই দীর্ঘস্থায়ী গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে।’ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে প্রথম দিকে স্বীকৃতি দেওয়া শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর অন্যতম জাপান–এ কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের বিগত পাঁচ দশকের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে সরকারপ্রধান জানান, জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), রেল ও অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগসহ (এফডিআই) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়াতে আমরা অভিন্ন মত পোষণ করেছি।’
তিনি আরও জানান, সম্পর্ককে অধিকতর গভীর করতে দুই দেশের মধ্যে আজ একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় হয়েছে। বৈঠকের সার্বিক ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী ধাপের অংশীদার হতে আমি জাপানের শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাত, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের জন্য লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগে আমরা জাপানি সহযোগীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার স্থানীয় সময় সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দরে তাকে ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়।
সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থানকালীন হোটেলে একাধিক রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লিগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
আলাদা বৈঠকে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিকাশমান আইসিটি খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উচ্চ প্রযুক্তিশিল্পে বৃহৎ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। জবাবে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বাণিজ্য বিস্তার ও নতুন বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।