
স্থানীয় নির্বাচনে সরকার ও প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না: শাহে আলম
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫

সমুদ্র সৈকতে তৈরি প্লাস্টিক দানব। ছবি: সময় সংবাদ
সমুদ্রদূষণের ভয়াবহ বার্তা দিতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে তৈরি করা হয়েছে পাঁচ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিশালাকার ‘প্লাস্টিক দানব’। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের তৈরি এই ভাস্কর্যটির মূল বার্তা- প্লাস্টিকের অপব্যবহারে সমুদ্রকে দানবে পরিণত করছি আমরাই, আর তা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সবার জন্য ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করা হয়। প্রদর্শনীটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে চার মাস। এ সময় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সমুদ্রদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশেষ থিয়েটার। সেখানে দায়িত্বশীল পর্যটন বিষয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হবে। চলচ্চিত্রটি দেখার প্রবেশমূল্য হিসেবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে আনতে হবে দুটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল। এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সমুদ্র আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মানুষের সামনে দূষণের ভয়াবহতা দৃশ্যমান করে তুলবে এবং নিজেদের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে আমাদের নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যাই। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই দানব আসলে আমাদের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই, মানুষ এই ভাস্কর্য দেখে শুধু ছবি তুলে চলে যাবে না, বরং নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিক কোথায় ফেলছে, সেটি সমুদ্রের জন্য কী ক্ষতি তৈরি করছে-সেই প্রশ্নটিও নিজের কাছে করবে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বছর ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’-এর মাধ্যমে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। এসব প্লাস্টিকের বিনিময়ে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ কার্যক্রমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি। এটি দর্শনার্থীদের কাছে প্লাস্টিক দূষণের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা আয়োজকদের। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেবে ভাস্কর্যটি।
চার মাসব্যাপী এ প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে কক্সবাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।