
‘হ্যালো ডিসি’তে অভিযোগ: ঢাকার ৪ উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান
মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৭

একসময় নৌযান চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে অনেক জায়গায় খাকদোন নদীটি সরু খাল কিংবা জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
কয়েক দশক ধরে খনন না করা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও দখলে বরগুনার খাকদোন নদীর অন্তত ১৭ কিলোমিটার অংশ এখন মৃত। একসময় যে নদী দিয়ে চলাচল করত পণ্য ও যাত্রীবাহী বড় বড় নৌযান, সেখানে এখন নাব্যতা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নৌযোগাযোগ। কমেছে মাছের উৎপাদন। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজও। এমন পরিস্থিতিতে নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয়রা জানান, বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদীর সংযোগ স্থাপনকারী খাকদোন নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন খনন না করায় এর বড় একটি অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক ও বাঁধ, কোথাও আবার দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কাঁচা-পাকা স্থাপনা। কিছু অংশে চলছে মাছ চাষও। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক নির্মাণ ও বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। একসময় নৌযান চলাচলের উপযোগী থাকলেও বর্তমানে অনেক জায়গায় নদীটি সরু খাল কিংবা জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় নদীটির অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় কমেছে। নদীপথে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনেও তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। পাশাপাশি কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, খাকদোন নদীর নাব্যতা সংকট নিরসন এবং পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরগুনা পৌরসভার টাউন হল এলাকা থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত নদীটির প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া খাকদোন নদী খননের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা ফিরবে, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং নৌযোগাযোগ, মৎস্যসম্পদ ও কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় অধিবাসী কামাল মল্লিক জানান, 'এই নদীতে ভাটার সময় পানির থাকে না। জোয়ারের সময় যে পানি ওঠে, তা ফসলের খেত পর্যন্ত পৌঁছায় না। একদিকে নদীর অস্তিত্ব যেমন বিলীন হয়ে গেছে, অন্যদিকে কৃষকরা পানি না পাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।'
রবিউল ফকির নামে একজন জানান, সরকারি নদীটিকে মেরে ফেলেছে বেশ কিছু রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর গতিপথ বন্ধ করে ছোট ছোট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এছাড়া স্লুইস গেট এবং কালভার্টতো আছেই। স্থানীয়দের নৌ যোগাযোগ নিশ্চিত করা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি কাজে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য খালি খনন করা খুবই জরুরি।
স্থানীয়রা বৃদ্ধ রশিদ হাওলাদার বলেন, 'এই নদী দিয়ে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতো। আমি স্বচক্ষে তা দেখেছি। কিন্তু এখন একটি ছোট ডিঙি নৌকা চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। নদীটি খনন করা হলে এই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। অন্তত কৃষকদের সুবিধার জন্য ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নদীটি খনন করা এখন খুবই জরুরি।'
এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, 'ইতোমধ্যেই আমরা নদীটি খননের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করেছি। এটি মন্ত্রণালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। খুব শিগগিরই এটি অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে নদীটি খনন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। নদীর অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা হলে -নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।'