
সিলেটে মুহূর্তেই উধাও ট্রেনের টিকিট, তদন্তে পিবিআই
আব্দুল আওয়াল
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১২

ভাগাড়ের নামে বগুড়া নগরীর প্রতিদিনের শত শত টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে করতোয়া নদীতে। নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়েই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএসের জায়গায় এসব ময়লা ফেলছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। এক্সক্যাভেটর দিয়ে এসব বর্জ্য সরাসরি নদীতে ঠেলে দেওয়ায় নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে এবং চারপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অথচ একসময় এই নদীর পানিই পান করতেন স্থানীয়রা।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২৪টি ট্রাকে করে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য সদর উপজেলার বাঘোপাড়ায় করতোয়া নদীর তীরে আনা হয়। এক পাশে করতোয়া নদী, অন্য পাশে ময়লার স্তূপ—এর মাঝেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে এসব ময়লা নদীতে ঠেলে ফেলার কার্যক্রম চলে।
নদী বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী, বর্জ্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফেলা এবং ডাম্পিংয়ের স্থান নির্বাচনে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপরও দূষণ অব্যাহত থাকায় ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর নদী দূষণের তালিকায় তৎকালীন বগুড়া পৌরসভাকে (বর্তমান সিটি করপোরেশন) একাধিকবার নোটিশ পাঠিয়ে সতর্ক করেছিল।
দ্রুত নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন চালুর আশ্বাস দিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ময়লা ফেলার কোনো জায়গা আমাদের নেই। আমরা জায়গা খুঁজছি। ইতিমধ্যে দুই-তিনটি জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা জায়গা কিনে সেখানে ময়লা ফেলব।
বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি ডাম্পিং জোন করতে হবে। আর ময়লা ফেলার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনভাবে বর্জ্য ফেললেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
উল্লেখ্য, মৃতপ্রায় করতোয়া নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে চলতি বছরের (২০২৬) ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’ অনুমোদন করা হয়েছে। একদিকে নদী বাঁচাতে মেগাপ্রকল্প, অন্যদিকে সেই নদীতেই বর্জ্য ফেলার এই চিত্র জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।