
নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলো স্বজনরা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:১০

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও জিম্মিদশা থেকে মুক্ত পাঁচ জেলে। ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক দুটো বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর আলাদা দুটো অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনী সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়।
আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিদের ফেলে গহিন বনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে ৪টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের কবল থেকে পাঁচজন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)।
অন্যদিকে, আরেকটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনের কুমড়োখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর সত্যতা যাচাইয়ে ৩ নভেম্বর সকাল ১১টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা এবং কোস্ট গার্ড স্টেশন নলিয়ানের সমন্বয়ে ওই এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গহিন বনে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৪টি একনলা বন্দুক, একটি .২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫২ রাউন্ড .২২ ক্যালিবার বন্দুকের গোলা ও ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লে. মীর আকিব মোস্তাফিজ জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কার্যক্রমও চলমান।
কোস্ট গার্ড জানায়, সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অচিরেই সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।