
ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি আজিজের ছেলে আরও ২ দিনের রিমান্ডে
প্রতিবেদক, মোংলা
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৭

মোংলা কাস্টমস হাউসের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন।
মোংলা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন বন্দরের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডাররা। তাকে দ্রুত অপসারণ, বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মোংলা কাস্টমস হাউসের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তারা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) মোংলা বন্দর কাস্টমস ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশন, শিপ চ্যান্ডলার অ্যাসোসিয়েশন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ শেষে ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কমিশনারের কাছে একটি অভিযোগ সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, মোংলা বন্দরে কাস্টমস হাউজ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন মোংলা বন্দরে আগত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের জিম্মি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। পণ্যবাহী দেশি-বিদেশি জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়লেই কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জোর করে মার্কিন ডলার, দামি হুইস্কি এবং বিদেশি সিগারেট আদায় করা হয়। পরবর্তীকালে জাহাজ থেকে আনা এসব অবৈধ মাদক ও পণ্য চোরাকারবারিদের মাধ্যমে গোপন আস্তানায় ও খুলনার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, কাস্টমসের আইজিএম শাখায় দায়িত্ব পালনকালে মামুন রীতি মতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত বৈধ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আসা ফাইল আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত চরম অসদাচরণ ও হয়রানি করা হয়।
এছাড়া নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে বন্দর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বেকার যুবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। লাইসেন্স তো দূরের কথা, টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং শিপ হ্যান্ডলারদের নানা ধরনের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করে জানান ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আল মামুন সব সময় ঊর্ধ্বতন এক শীর্ষ কর্মকর্তার (এডিশনাল কমিশনার) নাম ভাঙিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন।
ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন মোংলা বন্দরের কাস্টমসে রয়েছেন। আল মামুনের এমন দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণের কারণে দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে অনেক নতুন ও পুরোনো ব্যবসায়ী এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার প্রতিবছর মোংলা বন্দর থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সামগ্রিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বন্দর ব্যবসায়ীরাও মোংলা বন্দরে ব্যবসা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কাস্টমস প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে মোংলা কাস্টম হাউস থেকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসায়ীদের পক্ষো থেকে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশ শেষে কাস্টমস কমিশনার বরাবর একটি স্বারকলিপি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এ প্রসঙ্গে মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।