
প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন, গাড়িচাপায় গেল প্রাণ স্বামী-স্ত্রীর
সুফিয়ান আল হাসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৩

কাদামাটির সোঁদা গন্ধ আর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে দেবী প্রতিমা ও পূজার নানা অনুষঙ্গ। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখন দিনরাত এক করে মৃৎসামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কিসমত চোঙ্গাদারা গ্রামের কারিগররা। তবে এই ব্যস্ততার পেছনেই জমে আছে মৃৎশিল্পীদের গভীর দীর্ঘশ্বাস। প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসন, কাঁচামালের সংকট এবং ঋণের বোঝা, সব মিলিয়ে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আজ বিলুপ্তির মুখে।
জানা গেছে, কিসমত চোঙ্গাদারা গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের অন্তত ১০০ জন মানুষ এখনও জীবন-জীবিকার তাগিদে পূর্বপুরুষের এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন। তবে স্থানীয়ভাবে প্রতিমা ও অনুষঙ্গ তৈরির উপযোগী বিশেষ মাটি সহজলভ্য না থাকায়, পাশের রংপুর জেলার শ্যামপুর থেকে চড়া দামে মাটি কিনে আনতে হচ্ছে।
একদিকে মাটির চড়া দাম ও অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে সস্তা প্লাস্টিক ও আধুনিক পণ্যের ভিড়ে মাটির সামগ্রীর চাহিদা এখন তলানিতে। লোকসান গুনতে গুনতে বাধ্য হয়ে অনেক কারিগরই বাপ-দাদার ভিটে ও পেশা ছেড়ে কাজের খোঁজে পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকায়।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সকলে মিলে কাজ করলেও দিনশেষে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত লাভ। শিল্পীদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ ওঠানোই যেখানে দুষ্কর, সেখানে কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না পাওয়ায় তারা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।
স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, আবহমান বাংলার এই প্রাচীন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা অত্যন্ত জরুরি। আর্থিক সহযোগিতা না পেলে আগামী দিনে এই শিল্প ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্পীদের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো সরকারি আর্থিক সহায়তা ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কালের গর্ভে চিরতরে হারিয়ে যাবে লালমনিরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।