
তাহসিফের বন্ধু দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

বামে স্বামী যুবদল নেতা রাসেল মাহমুদ ও ডানে স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন শিলা
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শিলা (৪৫) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ফারহানার স্বামী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ তাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখেছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর আলামত পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে বাহেরচর বাজার এলাকার বাসা থেকে শিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে রাসেল মাহমুদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয় শিলার। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সামান্য বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। একাধিকবার রাতে শিলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্বজনদের অভিযোগ, শিলার পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাপ দিতেন রাসেল। জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থও স্বামীর হাতে তুলে দিতেন শিলা। সেই টাকা দিয়ে রাসেল তার প্রথম স্ত্রীর সংসার চালাতেন। এসব বিষয় নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
প্রতিবেশী কেয়া বেগম বলেন, শুক্রবার সকালে শিলার স্বামী রাসেল তাকে ডেকে নেন। এরপর ঘরে গিয়ে শিলাকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তিনি।
শিলার ছোট ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বলেন, আমার বোনের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। রাসেল তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখেছে বলে আমাদের ধারণা। বোনের সম্পত্তি দখল কিংবা জমিজমা বিক্রির টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে শিলার স্বামী রাসেল মাহমুদকে লাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চান না। জানাজার সময় বক্তব্য দেবেন।
রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর ধারণা পাওয়ায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।