
মাঠ পুনরুদ্ধার দাবিতে শেকৃবির শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বাণিজ্য মেলার গেট-স্টল ভাঙচুর
আদনান তূর্য
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২১

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফাইল ছবি
ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সরকার রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। পাশাপাশি যে কোনো মূল্যে কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিশেষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান শ্রমমন্ত্রী।
বৈঠকের বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কলকারখানা যেন সঠিকভাবে চলে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে আমরা সবাই যেন সজাগ থাকি। এটি এখন পরিষ্কার যে সরকারকে অস্থিতিশীল করতেই একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী শ্রমিকদের সঙ্গে না থেকেও নানা সংগঠনের সঙ্গে মিশে ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে মেতে উঠেছে।’
এর আগে পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এক জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শ্রমমন্ত্রী তার পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করেছেন।
এর আগে আজ সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আগেই নিশ্চিত করা হয়েছিল, তাই সড়কে অবস্থান নিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা যুক্তিসংগত নয়।
তবে নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণার পরও আজ সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। দুপুরে মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এসব এলাকার অন্তত ৩০০ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।